দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে লকডাউন, আসেনি ত্রাণ সহযোগিতা

করোনা রোধে সারা দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা দেশের সর্ববৃহৎ গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে সর্বসাধারণের যাতায়াত বন্ধ। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে যা বুধবার থেকে কার্যকর শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে বড় এই যৌনপল্লিতে এই সময়ে খদ্দররা যাতায়াত করতে পারবে না বলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কিন্তু লকডাউনের ঘোষণা আসলেও যৌনকর্মীদের ত্রাণ সহযোগিতার কোনো ঘোষণা শোনা যায়নি। গত বছর লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যৌনকর্মীদের জন্য এসেছিল সহযোগিতা। এ পল্লিতে সরকারি হিসেবে ১৬০০ ও বেসরকারি হিসেবে পাঁচ হাজার যৌনকর্মী রয়েছেন। তাদের ছেলেমেয়ে এবং পল্লিতে ঘরের মালিক ও দালালসহ আরো চার শ জন বসবাস করে থাকেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর  জানান, সরকার থেকে আমাদের যেসব নির্দেশনা দিয়েছে আমরা তা বাস্তবায়ন করব এবং পল্লির ভেতরে এর ব্যতিক্রম হবে না।

তিনি জানান, যৌনপল্লির বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনে প্রধান ফটক দিয়ে বাইরে যেতে পারবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন মিটিয়ে তাকে ফিরতে হবে।

সরেজমিনে বুধবার বেলা ১১টার দিকে পল্লির ভেতরে দেখা যায় , সেখানে কোনো ভিড় নেই, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে যৌনকর্মীরা  গলির ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকেন, লকডাউনের কারণে তেমন চিত্র দেখা যায়নি। গলির ভেতরের দোকানও ছিল বন্ধ।

ঘিঞ্জি পরিবেশ, অল্প জায়গায় বেশি মানুষের উপস্থিতি, সেই সঙ্গে পল্লির বাসিন্দাদের অসচেতনতায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাস এখানে ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে হাজার হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করে। এখানে আসা মানুষগুলোকে কোথা থেকে এসেছেন বা থাকছেন তার কোনো সঠিক তথ্য জানা নেই কারো। তাই সারা দেশের মতো এখানেও লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

ইউএনও মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।