চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে বারবার জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য এ রেলপথের ১২ কিলোমিটারের নির্মাণ ত্রুটিকে দায়ী করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৫ মার্চ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন তিন সদস্যের কমিটির প্রধান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রেলপথ) মো. মহিউদ্দিন আরিফ। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেট রুটে সংস্কারহীন রেলপথ, পুরনো কালভার্ট ও সেতু, পুরনো ইঞ্জিন, অপর্যাপ্ত পাথর ছাড়াও পাহাড়ি রেলপথটি ট্রেন চলাচলের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনগুলো ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে। রেলপথের শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ ও শ্রীমঙ্গল-রশিদপুর সেকশন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। উঁচু-নিচু ও অতিরিক্ত বাঁকের কারণে এ অংশে ট্রেনগুলো বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কমিটি শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সেকশনকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে। এ সেকশনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১২ দশমিক ০৭ কিলোমিটার। পাহাড়ি টিলা ছাড়াও এ অংশে উঁচু-নিচু ঢাল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় লোডেড ট্রেনগুলো আপ ও ডাউনের সময় চালক নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতে পারেন না। ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালালে উঁচু ঢালে ওঠার সময় গতি কমে থেমে যায়। আবার ৪৫ কিলোমিটার গতি দিলে ঢাল সহজে পার হলেও অতিরিক্ত বাঁকের কারণে লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কমিটি উঁচু-নিচু ঢাল ও বাঁক যৌক্তিক পর্যায়ে আনার সুপারিশ করেছে।
কমিটির এক সদস্য জানান, উঁচু-নিচু ঢাল এবং অতিরিক্ত বাঁক ছাড়াও বর্ষাকালে এ রেলপথে পাহাড়ি টিলার মাটি এসে জমে। বর্ষা মৌসুমে গাছের ঢালপালা পড়ে রেলপথটি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করা না হলে আবারও দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের বগি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও রেলস্টেশনের অদূরে চানমারী এলাকায় লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। এতে ওয়াগন থেকে ডিজেল ও কেরোসিন পড়ে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগনটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও ভাটেরা রেলস্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে যোগাযোগ বন্ধ ছাড়াও ওয়াগনের ডিজেল-কেরোসিন পড়ে রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপরই এসব দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি করা হয়।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলেট রুটে বারবার ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। সমস্যাগুলো মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আর ত্রুটিপূর্ণ ১২ কিলোমিটার রেললাইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’