ভাসানচর থেকে মালয়েশিয়ার নেয়ার কথা বলে আনা হলো মিরসরাই

রোহিঙ্গাদের একটি দলকে আটক করেছে মিরসরাই উপজেলার জোরাগঞ্জ থানা পুলিশ। তাদের নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে মালয়েশিয়া নেয়ার কথা বলে মিরসরাইয়ে আনা হয়। এ সময় তিন শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ।

রোববার মধ্যরাতে তাদের উপজেলার ইছাখালী এলাকা থেকে আটক করা হয়। রোহিঙ্গাদের পালাতে সাহায্য করা দালালচক্রের তিন সদস্যকেও আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে ভাসানচর আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে দালালদের সাহায্য নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তিন শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গা মিরসরাইয়ের ইছাখালী এসে অবস্থান নেয়। দালালরা তাদের মালয়শিয়া পাঠাবে এই আশ্বাসের ভিত্তিতে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। এরপর তারা ইছাখালী ইকোনোমিক জোন এলাকায় পৌঁছায়। এসময় স্থানীয় জনগণ রোহিঙ্গাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে দালালচক্রের তিন সদস্যসহ রোহিঙ্গাদের আটক করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

আটক দালাল চক্রের সদস্যরা হলো, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বেলাল হোসেন (২৮), একই এলাকার মো. জুয়েল (২০) ও সন্দ্বীপ উপজেলার দিদারুল আলম (২১)।

আটক রোহিঙ্গারা হলেন নূরজাহান বেগম (২০), রেহানা আক্তার (১৯), আছিয়া বেগম (১৮), নূর খাইয়াছ (২৫), মিনারা বেগম (২০), মনিয়া বেগম (২০), কহিনা আক্তার (৩২), জিসান (১০), জান্নাতুল নাঈমা (৮) ও জেসমিন আক্তার (১২)।

এর আগে রোববার পালানোর সময় সন্দ্বীপ থেকে ১৪ রোহিঙ্গাকে জনগণ আটক করে পুলিশে খবর দেয়। দেড় মাসে ভাসানচর থেকে পালানোর সময় ৫ দফায় মোট ৩৯ রোহিঙ্গা আটক হয়।

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার ওসি নূর হোসেন মামুন জানান, রোহিঙ্গা দালাল চক্রের সাহায্যে সাগর পার হয়ে ইছাখালী ইকোনোমিক জোন এলাকায় আসে। খবর পেয়ে তাদের আটক করি। তারা স্বীকার করেছে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য তারা ভাসানচর থেকে পালিয়েছে। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈদেশিক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।