খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে এখন খুলনা বিভাগ শীর্ষে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এরই মধ্যে বিভাগে মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৮৯ জন। সীমান্ত পথে অবৈধভাবে যাতায়াতকারীদের মাধ্যমে দেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

করোনা সংক্রমণ রোধে খুলনা জেলায় নতুন করে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

শুক্রবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। রবিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এর আগে গত ৩ জুন থেকে খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর ও জেলার রূপসা থানায় বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়।

বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে, বিকাল ৫টার পর কোনো দোকান, শপিংলমল, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি খোলা রাখা যাবে না। তবে সকল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হয়ে অযথা ঘোরাঘুরি করতে পারবে না। ইজিবাইক চলবে অর্ধেক এবং অর্ধেকসংখ্যক যাত্রী নিয়ে। কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান এই বিধিনিষেধ আওতামুক্ত থাকবে।

শুক্রবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা  দেওয়া  তথ্য মতে খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে ১১ জুন (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৬৮৯ জন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০১। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ হাজার ৭৩৬ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারাদেশে সর্বমোট ১৮ হাজার ৫৩৫ নমুনা পরীক্ষায় দুই হাজার ৪৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জেলাভিত্তিক করোনা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে খুলনা জেলা শীর্ষে রয়েছে। এ পর্যন্ত খুলনায় শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ২৫৭। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৯২ এবং সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৬০৫। বাগেরহাটে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৬ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৩ এবং সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৫১৪ জন। সাতক্ষীরায় শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৬৮ এবং মারা গেছে ৫০ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৫৬০ জন। যশোরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৭, মারা গেছে ৮৫ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৬ হাজার ৬৮০। নড়াইলে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১২, মারা গেছে ২৭ এবং সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৮৮৭ জন। মাগুরায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৭ জন, মারা গেছে ২৩ এবং সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ২১৫ জন। ঝিনাইদহে শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৭ জন। মারা গেছে ৫৭ জন এবং সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৭৯২ জন। কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৩৮, মারা গেছে ১২৭ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৭৮০ জন। চুয়াডাঙ্গায় শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১৭৫, মারা গেছে ৬৪ এবং সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৮৫৯ জন।

শনাক্তের দিক দিয়ে সর্বনিম্নে রয়েছে মেহেরপুর। এখানে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২২, আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৩ এবং সুস্থ হয়েছে ৮৮৪ জন।