যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইয়াছিন আরাফাত বাবু নামে যুবলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে এক নারীর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইয়াসিন আরাফাত বাবু উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং জাহাপুর গ্রামের আবদুল মান্নান মিয়ার ছেলে।

ভুক্তভোগী নারীর নাম নাছিমা বেগম। তিনি তিতাস উপজেলার কলাচাঁনকান্দি গ্রামের আবদুল বারেক মিয়ার মেয়ে। এ নিয়ে ওই নারী ইয়াসিন আরাফাত বাবু, তার মা রেহেনা বেগম ও নিজের স্বামী শহীদ মিয়াকে অভিযুক্ত করে মুরাদনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত শনিবার এ নিয়ে অভিযোগ দাখিলের পর গতকাল সোমবার পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে ওই এলাকায় আসে। এ সময় স্থানীয় লোকজনও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

প্রতারণার শিকার ওই নারী বলেন, অভিযোগের ৩নং বিবাদী মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ এলাকার শহীদ মিয়া আমার স্বামী। তার সঙ্গে আমার জায়গা-জমি নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলছিল। আমাদের না জানিয়ে আমার বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে সে জোরপূর্বক ৪২ শতাংশ জমি দানপত্র দলিল করে নেয়। পরে আমরা জানতে পেরে ওই জমি উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। একপর্যায়ে জাহাপুর গ্রামের স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইয়াসিন আরাফাত বাবুর শরণাপন্ন হলে বাবু আমার জমি উদ্ধার করে দেবে বলে দুই দফায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নেয়।

কিন্তু পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও সে আমার জমি উদ্ধার দূরের কথা, টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন গালমন্দ ও টাকা নেয়নি বলে অস্বীকার করে। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী শহীদ মিয়া জুয়াড়ি ও মাদকসেবী। সে আমাকে ছাড়াও আরও কয়েকটি বিয়ে করেছে। যার কারণে সন্তানদের নিয়ে আমি বাবার বাড়িতে থাকি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবলীগ নেতা ইয়াসিন আরাফাত বাবু বলেন, আমি নাছিমা বেগমের কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নিইনি।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমান বলেন, প্রতারণা করে এক নারীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ওই নারীর টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাত বাবুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।