পাবিপ্রবিতে কয়েক কোটি টাকা ‘লোপাট’: প্রকৌশলী-কর্মকর্তারা মুখোমুখি

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। দুর্নীতির নানা অভিযোগে বিতর্কিত হন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী। তার স্বেচ্ছাচারিতায় একের পর এক অঘটন ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ তুলে তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দাবি, প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে প্রকৌশল দপ্তর উন্নয়ন প্রকল্পের লুটপাটের প্রতিবাদ জানানোর কারণেই অসত্য অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার প্রধান প্রকৌশলীর অপসারণ দাবি করে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে অফিসার সমিতি। এর বিপরীতে প্রধান প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বুধবার কর্মবিরতি পালন করে প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পাবিপ্রবির অপর একটি সূত্র জানায়, উন্নয়ন প্রকল্পের লুটপাটের টাকা ভাগ বাটোয়ারার দ্ব্দ্ব থেকে এখন প্রকাশ্য যুদ্ধে নেমেছেন কর্মকর্তারা।

প্রধান প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে বদলির জন্য আমাকে দায়ী করে অফিসার সমিতির নেতৃবৃন্দ মঙ্গলবার আমার অফিস রুমে এসে অশোভন আচরণ করেন। আমি এ বদলির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই বলে তাদের বারবার জানানোর পরও তারা উত্তেজিত হয়ে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে অফিস শেষে বাড়ি ফেরার সময় মূলফটকে আমাকে আমার গাড়ি থেকে নামিয়ে চাবি কেড়ে নেন। এ সময় তারা মারমুখী হয়ে আমার আর অফিসে আসার দরকার নেই বলেও শাসিয়ে দেন। 

এ অভিযোগ তুলে প্রকৌশল দপ্তরের সব কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন এবং বিচার দাবিতে বুধবার তারা কর্মবিরতি পালন করেন।

পাবিপ্রবির এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কর্মকর্তা সমিতির নেতারা উন্নয়ন প্রকল্পের শুরু থেকে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে টাকা সরিয়ে তাদের দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। তাদের অনৈতিক দাবি মেনে না নেওয়ার কারণে তারা প্রায়ই প্রকৌশলীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। সম্প্রতি অফিসার সমিতির সভাপতি হারুনর রশিদ ডনের ভাই আলতাব মাটি ভরাটের কাজ নিয়ে নয়ছয় করছিলেন। প্রকৌশল বিভাগের লোকজন এতে বাধা দিলেই সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সংঘবদ্ধভাবে আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালায়। উপাচার্য সে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করেননি। এখন তারা প্রধান প্রকৌশলীকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের অনৈতিক দাবি আদায়ের চেষ্টা করছেন।

পাবিপ্রবি অফিসার্স সমিতির সভাপতি হারুনর রশিদ ডন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রায় পাঁচ শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কাজের শুরতেই উপাচার্য এম রোস্তম আলী তার আজ্ঞাবহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রহিমকে এ প্রকল্প তদারকির জন্য নিয়োগ দেন। তুমুল বিতর্কের মুখে সে নিয়োগ বাতিল হলে উপাচার্য নিজের পছন্দের আমিনুল ইসলামকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন। তার প্রশ্রয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করে। আমরা বারংবার এই দপ্তরের অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে ভিসি স্যারকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করলেও তিনি বিষয়টি আমলে নেননি।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরে কিছু মেডিকেল সরঞ্জামাদি ক্রয় করেন প্রকৌশল দপ্তর। সেগুলোর চালান অনুযায়ী সরঞ্জামাদি সরবরাহ না করে নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। স্টোরে দায়িত্বরত পরিচালক রফিকুল ইসলামকে জোরপূর্বক সেসব জিনিসপত্র বুঝে পাওয়ার প্রত্যয়ন ও ভুয়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দিতে থাকেন প্রকৌশলীরা। তিনি তা না করায় তারা আমার ভাইয়ের ঠিকাদারী কাজকে এর সঙ্গে মিলিয়ে অসত্য অভিযোগ করছেন।

পাবিপ্রবি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী নিয়োগকৃত পাঁচ প্রকৌশলী থাকার পরও অপ্রয়োজনীয়ভাবে মাসিক লাখ টাকা চুক্তিভিত্তিক বেতনে প্রধান প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা অপচয়ের অবসান চাই। 

তিনি বলেন, প্রধান প্রকৌশলীর পদত্যাগের দাবিতে বুধবার পাবিপ্রবি অফিসার সমিতির পক্ষে উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন করব। তবু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা অপচয় হতে দেব না।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ‘উপাচার্য স্যার এলে সমস্যার সমাধান করা হবে’।