এখন মুক্তিযোদ্ধা হওয়া লাগে না দাবি করে রাজবাড়ী-২ আসনের (সরকারদলীয়) সাংসদ জিল্লুল হাকিম বলেছেন, ‘এখন মুক্তিযোদ্ধা নানানভাবে তৈরি হচ্ছে। এই প্রথা বাতিল করতে হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন দাবি করেন। জিল্লুল হাকিম বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবের সমর্থন করে সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এখন মুক্তিযোদ্ধা নানানভাবে তৈরি হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা হওয়া লাগে না। আমরা দেখি আমাদের দেশে কোর্টও রায় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বানাচ্ছেন। আমরা যাচাই-বাছাই কমিটিতে অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দিয়েছি। তারা কোর্টে গিয়ে রায় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধা তো বানানো যায় না। বানানোর প্রথা বাদ দিতে হবে। এটা বাতিল করতে হবে।’
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী জিল্লুল হাকিম বলেন, ‘বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই ভাতা বৃদ্ধি অবশ্যই অভিনন্দনযোগ্য। যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, তাদের ভাতা বৃদ্ধি করা হোক। ২০ হাজার কেন, এই ভাতা আরও বেশি করা হোক। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা আর কয়দিন...? এখনই মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।’
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে আরেকটি পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি করে সরকারদলীয় এই সাংসদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি যে প্রতিশ্রুতি দেন তা পালন করেন। আশা করব এই সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হবে।’
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করারোপের প্রস্তাবে উৎকণ্ঠায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা’ : বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার উচ্চশিক্ষায় ১৫ শতাংশ করারোপের প্রস্তাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাংসদ আবদুল মান্নান। জাতীয় সংসদে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাজেট ‘গণবান্ধব’ করতে হলে কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন প্রয়োজন উল্লেখ করে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এই সাংসদ বলেন, ‘বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দেশের বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। কারণ, বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় এই বাড়তি কর শিক্ষার্থীদের থেকে আদায় করবে। এতে উচ্চশিক্ষায় ব্যয় বাড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবকই এই বাড়তি ব্যয় নির্বাহে অক্ষম।’
তিনি বলেন, ‘করোনার প্রভাবে মধ্যবিত্তের আয় কমেছে, বেকার হয়েছে অনেকে। কিন্তু সংসারের খরচ কমেনি; বরং করোনার মধ্যে সন্তানকে অনলাইনে ক্লাস করার জন্য ইলেকট্রনিক গেজেট কিনতে বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। হ্যান্ড সানিটাইজার, মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নিত্যপণ্যে পরিণত হয়েছে। সেই তুলনায় মধ্যবিত্তদের সুবিধা নিতে আয়কর সীমা বাড়ানো হয়নি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি।’
স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কভিডের সময় এ খাতের অনেক অনিয়ম ও অসংগতি জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। চলতি অর্থবছরে এডিপির টাকা খরচের সবচেয়ে হতাশার চিত্র দেখা গেছে এ মন্ত্রণালয়ে। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় সক্ষমতার অভাব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
বিকল্প ধারার মহাসচিব মান্নান বলেন, ‘এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাব্যঞ্জক। ১১ মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫৮ শতাংশ। বছরের শুরুতে আশানুরূপ খরচ হবে না, আর শেষ দুই-তিন মাসে খরচের হিড়িক পড়বেএটা যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এ কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।’