বাঙালির প্রাচীন কালের ঐতিহ্য পান-সুপারি। অভ্যাসগত কারণ ছাড়াও ভোজনের অনুষ্ঠান শেষে কিংবা বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে এর জুড়ি নেই। দেশের প্রায় সব জেলায় সুপারি উৎপাদন হলেও কয়েকটি জেলায় এর আবাদ বেশি হয়ে থাকে। এর মধ্যে উত্তরের জেলা পঞ্চগড় অন্যতম।
জেলায় বাণিজ্যিকভাবে পানের আবাদ শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগেই। পানের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে সুপারির চাষ সেভাবে শুরু না হলেও এ জেলার সুপারির কদর থাকায় সুপারিগাছ রোপণ ও উৎপাদন আগের চেয়ে বেড়েছে। বাড়ির আঙিনা ও জমির সীমানায় সুপারিগাছ লাগিয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কয়েক হাজার গাছও লাগিয়েছেন।
সরেজমিনে জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সুপারি কেনাবেচার চিত্র দেখা গেছে। জানা গেছে, জেলার সদর, আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় সুপারির উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। এ গাছ রোপণের পর তেমন কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে না। প্রয়োজন হয় না কোনো কীটনাশক বা সেচের। ফলে অনেকটা বিনা পুঁজিতেই সুপারির চাষ হচ্ছে। প্রতি বছর ভালো দাম পাচ্ছেন স্থানীয়রা। পঞ্চগড়ের সুপারির আকার তুলনামূলক বড় হওয়ায় এবং স্বাদ ও রং ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় এর ভালো চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, একটি গাছে চার থেকে ছয় পোন (১ পোন = ৮০টি) সুপারি ধরে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সুপারি বিক্রি করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন।
জেলার সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বসির আলম জানান, নিজ বাড়িতে শখ করে ১০টি সুপারিগাছ রোপণ করেছেন। সবগুলো গাছেই কমবেশি সুপারি ধরে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সুপারি বাজারে বিক্রি করে ভালো টাকা পান। তাই তিনি বাড়িতে আরও কিছু গাছ লাগিয়েছেন।
সুপারির পাইকারি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম রবি জানান, প্রতি পোন সুপারি তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে ২০০-৩৫০ টাকা দরে কিনে নেন। এই সুপারি তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান জানান, পঞ্চগড়ের মাটি উপযোগী হওয়ায় স্থানীয়রা বাণিজ্যিকভাবে সুপারির চাষ শুরু করেছে। তবে ফল আসা শুরু হয়নি। এখানকার সুপারির মান ভালো হওয়ায় অন্যান্য জেলায় বেশ চাহিদা রয়েছে।