দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের (বেসরকারি) সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং (ব্যবস্থাপনা) কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম গ্র্যাজুয়েটের (ডিগ্রি পাসের নিচে নয়) বিধান কেন করা হবে নাএ মর্মে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম গ্র্যাজুয়েট (ডিগ্রি পাস) কেন করা হবে না রুলে সেটিও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং উচ্চ ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফয়েজ আহমেদ, জহির উদ্দিন লিমন ও নিগার সুলতানা।
গত বছরের ৪ নভেম্বর মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড পিপলস রাইটস ফাউন্ডেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন লিমন এই আবেদনটি করেন। এতে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম গ্র্যাজুয়েটের (ডিগ্রি পাসের নিচে নয়) বিধান করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
জহির উদ্দিন লিমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হতে হলে কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। কেউ কেউ দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সেই শিক্ষকদের পরিচালনার ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ডিগ্রি পাস অথবা গ্র্যাজুয়েট হওয়া বাঞ্ছনীয়।
জহির উদ্দিন লিমন বলেন, সকল শিক্ষা বোর্ড মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালার ৫(৩) ও ৮(৩) এ স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ও খ্যাতিমান সমাজসেবকদের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি করার বিধান রয়েছে। কিন্তু কারা শিক্ষানুরাগী ও খ্যাতিমান সমাজসেবক হবেন সে মর্মে কোনো ব্যাখ্যা নেই। এ বিষয়টি হাইকোর্টের দৃষ্টিগোচর করা হলে আদালত এ বিষয়েও রুল দিয়েছে।