ডাচ-বাংলা চেম্বারের ভার্চুয়াল সেমিনারে ফারুক হাসান

শ্রমিকদের কল্যাণে ১০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিজিএমইএ

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কল্যাণে কারখানাগুলো তাদের রপ্তানি আয় থেকে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। গত শনিবার নেদারল্যান্ডসের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিবিসিসিআই) আয়োজিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে পোশাকশিল্পের শ্রমিকে কল্যাণ’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি এ কথা জানান।

ফারুক হাসান বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে পোশাকশিল্পে শিশুশ্রম অপসারণ এবং নিম্নতম মজুরি নিশ্চিত করে যথাসময়ের মধ্যে মজুরি পরিশোধ, কর্মপরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখা এবং এ ধরনের আরও অনেক কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন শুরু হয়েছিল। আজ এ শিল্পটি কমপ্লায়েন্স ও শ্রম অধিকারের সব ইস্যুতেই নিবিড়ভাবে কাজ করছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, ‘করোনা অতিমারি চলাকালেও যেন জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে শ্রমিকদের করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়েও বিজিএমইএ অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইএলও ও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শের আলোকে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোর জন্য স্বাস্থ্যবিধি বা প্রটোকল প্রণয়ন করেছে এবং পোশাক কারখানাগুলো কঠোরভাবে এই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছে। কারখানাগুলো যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কি না, তা বিজিএমইএ থেকেও প্রতিনিয়ত নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। পোশাকশিল্পের শ্রমিক ভাইবোনদের সংক্রমণ পরীক্ষায় বিজিএমইএ গাজীপুরের চন্দ্রায় বিশ^মানের পিসিআর ল্যাব স্থাপন করেছে। এ ল্যাবে শ্রমিক ভাইবোনেরা স্যাম্পল পরীক্ষা করাচ্ছেন। এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে শ্রমিক ভাইবোনদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘২০১৩ সালে রানা প্লাজা ভবন ধসের পর আমাদের সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে শিল্পে স্থাপত্য, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনন্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, আইএলওর মতো দাতা সংস্থা সহায়তা প্রদান করেছে। অধিকন্তু, শ্রম আইন দুবার ২০১৩ ও ২০১৮ সময়ে সংশোধিত হয়েছে এবং কর্মপরিবেশে শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে শ্রমবিধি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি কারখানায় সেফটি কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিকদের পার্টিসিপেশন কমিটিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে গড়ে ওঠা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক, বাংলাদেশের জনগণের জন্য নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার ও বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে ভূমিকা পালন করছে, তা অসাধারণ।’

পোশাকশিল্পে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য ফারুক হাসান নেদারল্যান্ডস সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

৭৪ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের বোনাস দিয়েছে : পোশাক কারখানায় গতকাল রবিবার পর্যন্ত ৯৭ শতাংশ শ্রমিকের জুন মাসের বেতন এবং ৭৪ শতাংশ শ্রমিকের উৎসবভাতা (বোনাস) পরিশোধ হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সাতটি কারখানার বেতন ও উৎসবভাতা নিয়ে জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটির প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের ১ হাজার ৯২২টি কারখানা চালু আছে। এর মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ১ হাজার ৬৬৬টি এবং চট্টগ্রামে ২৪৬টি। বিজিএমইএ জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত তাদের ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার জুনের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। আর উৎসবভাতা প্রদান করা হয়েছে ১ হাজার ৪২৭টি কারখানার। বাকি কারখানাগুলো আজ সোমবারের মধ্যে বেতন ও উৎসবভাতা পরিশোধ করবে বলে আশা করছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে পোশাকশিল্প মালিকদের সঙ্গে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম কাজ করছে। আশা করছি ঈদের আগেই বেতন-বোনাস পরিশোধ করে দেবে।’