ইসলামপুরের ‘দারকি শিল্প’

‘লকডাউনে’ ক্রেতা নেই কষ্টে ৩ শতাধিক পরিবার

‘কঠোর লকডাউনের’ মধ্যে বিপাকে পড়েছেন জামালপুরের ইসলামপুরের মাছ ধরার ফাঁদ ‘দারকি’ তৈরির কারিগররা। বর্ষার ভরা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দারকির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ‘লকডাউনের’ কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসতে পারছে না পাইকাররা। বেচাবিক্রি না থাকায় চরম কষ্টে দিন কাটছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ইসলামপুরের হাতিজা গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবারের। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা চাইছেন তারা।

হাতিজা গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক পরিবারের সদস্যরা বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই শিল্পের সঙ্গে। বাঁশ থেকে শলাকা তৈরি, সেসব শলাকা সুতোয় গাঁথা থেকে শুরু করে একটি সম্পূর্ণ দারকি তৈরির পেছনে রয়েছে পরিবারের সব সদস্যের হাতের ছোঁয়া। বর্ষা মৌসুমে দারকি বিক্রির উদ্দেশ্যে এ গ্রামের মানুষেরা সারা বছরই দারকি  তৈরি করে জমিয়ে রাখেন। গত কয়েক বছরে বাঁশ, সুতাসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এ শিল্প যেখানে টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে করোনার প্রভাবে অনেকটা বন্ধের উপক্রম এই শিল্প।

নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়, বিলের অঞ্চল বলে পরিচিতি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে মাছ ধরার ফাঁদ দারকির চাহিদা প্রচুর। আর এই চাহিদার সিংহভাগই তৈরি হয় ‘দারকি গ্রাম’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই হাতিজা গ্রাম থেকে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাড়াও ঢাকা ও গাজীপুরেও রয়েছে দারকির বিপুল চাহিদা।

সরেজমিন দেখা যায়, হাতিজা গ্রামের প্রতিটি বাড়ি যেন দারকি তৈরির কারখানা। প্রায় সব বাড়িতেই লোকজন দারকি তৈরিতে ব্যস্ত। গ্রামবাসী জানালেন, দফায় দফায় লকডাউনের কারণে ক্রেতা আসতে না পারায় অধিকাংশ দারকি অবিক্রীত থেকে গেছে।

গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদুর রহমান জানান, ‘সারা বছর ঋণ-ধার কইরা দারকি বানাই। বর্ষা  মৌসুমে বেইচা ঋণ পরিশোধ করি। এইবার লকডাউনে কোনো পাইকার আবার পারে নাই। বেচাকেনা একেবারেই কম। ঋণ শোধ করমু কী দিয়া, আর পরিবার চালামু কী দিয়া?’

আরেক বাসিন্দা মো. বিক্কু শেখ জানান, ‘গ্রামের সবার পেট চলে দারকি বানাইয়া। লকডাউনে গত বছরও ব্যবসা হয় নাই। এই বছরও একই অবস্থা। আমগো কপালে সরকারি কোনো সাহায্যও জুটে না।’

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোকলেছুর রহমান জানান, ‘দারকি তৈরির সঙ্গে জড়িতদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি হাতিজা গ্রামের মানুষের মধ্যে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’