সাভারে হোটেল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম লস্কর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা আরও দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই নিয়ে ওই মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা হলো- লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার বিনোদধর্মিপুর গ্রামের মৃত মমিন উল্লাহর ছেলে মো. আজাদ হোসেন জাবেদ ওরফে মুরগি জাবেদ (৩৮) ও সাভার থানার গেন্ডা এলাকার রহমত আলির ছেলে আব্দুর রহিম ওরফে এ আর মাহমুদ। তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।
সোমবার গভীর রাতে সাভার থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলাবার দুপুরে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান জানান, গত ৪ অক্টোবর গ্রেপ্তারকৃতরাসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা নিরালা পরিবহনের একটি বাস কুয়াকাটা যাওয়ার কথা বলে তিন দিনের জন্য ভাড়া নেয়। ওই বাস দিয়ে মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়িতে ডাকাতির কাজ শেষ করে ৫ অক্টোবর তারা ঢাকায় ফিরছিল। এদিন রবিউল ইসলাম লস্কর নামে একজন হোটেল ব্যবসায়ী কর্মস্থলে ফেরার জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে ওই ডাকাত দলের বাসে ওঠেন। পরে ডাকাতরা চলন্ত গাড়িতে রবিউলের কাছ থাকা টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে চাইলে সে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা রবিউলকে হুইল রেঞ্জ দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ডাকাতরা রবিউলের মৃতদেহটি সাভারের বলিয়াপুর এলাকার যমুনা ন্যাচারাল পার্কের গেইটের পাশে ফেলে দিয়ে তার মায়ের মোবাইলে ফোন করে জানায় রবিউল খুন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেয়া হলে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৩ই অক্টোবর সাভার থেকে ডাকাত দলের নেতা বসির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই ও রাজধানীর ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সকলেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যেই, মুরগি জাবেদ ও রহিমের হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হই। কিন্তু ১১ ডাকাত গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তারা দুজন আত্মগোপনে ছিল। তবে ‘মুরগি জাবেদ’ নামের সূত্র ধরেই তদন্ত চলতে থাকে। অবশেষে সাভার বাজার এলাকায় মুরগি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে ‘মুরগি জাবেদ’ এর সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু এরই মধ্যে জাবেদ তার পেশা পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসা শুরু করায় তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। অপরদিকে রহিমের স্থায়ী কোন ঠিকানা না থাকায় সে বিভিন্ন অপকর্ম করে কিছুদিন পরপর স্থান পরিবর্তন করত। সবশেষ সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সাভার থানা এলাকা থেকে মুরগি জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে একই থানা এলাকা থেকে আব্দুর রহিমকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত ঘনঘন পেশা পরিবর্তন করে ডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটিত করত এবং ডাকাতি শেষে আত্মগোপনে চলে যেতো।