অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭ সিবিএ (যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি বা কালেকটিভ বারগেইনিং এজেন্ট) নেতার বিষয়ে তদন্তের প্রশ্নে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। ব্যাংক, বীমা, রেজিস্ট্রি অফিসসহ অন্যান্য সূত্র থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না সম্পূরক রুলে সেটি জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। চার সপ্তাহের মধ্যে দুদককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিমানের ওই ১৭ সিবিএ নেতা হলেন মো. মসিকুর রহমান, আজাহারুল ইমাম মজুমদার, আনোয়ার হোসেন, মো. ইউনুস খান, মো. মনতাসার রহমান, মো. রুবেল চৌধুরী, মো. রফিকুল আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. হারুনর রশিদ, আবদুল বারি, মো. ফিরোজুল ইসলাম, আসমা খানম, আবুল কালাম মো. আবদুস সোবহান, গোলাম কায়সার আহমেদ, মো. আবদুল জব্বার এবং মো. আবদুল আজিজ।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আবেদনকারী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফৌজিয়া আখতার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, ১৭ সিবিএ নেতার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে এইচআরপিবির পক্ষে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুলে দুদকের পদক্ষেপের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেটি জানতে চায় আদালত। দুদক হাইকোর্টে যে প্রতিবেদন দাখিল করে তাতে শুধু তাদের (১৭ সিবিএ নেতা) দেওয়া সম্পদের বিবরণ ট্যাক্স ফাইলের সঙ্গে তুলনা করে প্রতিবেদন দাখিল করে দুর্নীতি পাওয়া যায়নি বলে অনুসন্ধান সমাপ্ত করে। মনজিল মোরসেদ বলেন, সাধারণত দুর্নীতির তদন্তের দেখা যায়, কোনো ব্যক্তির জমি, অর্থ সম্পদ আছে কি না সেটি অনুসন্ধানের জন্য ব্যাংক, বীমা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য নেওয়া হয়। কিন্তু ওই ১৭ জনের বিষয়ে তা করা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এইচআরপিবির পক্ষে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এর ওপর শুনানি শেষে রুলের এ আদেশ হলো।