কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের তথ্য চায় হাইকোর্ট

মৃত্যুদন্ডের সাজা মাথায় নিয়ে দেশের কারাগারগুলোতে কনডেম সেলে থাকা বন্দির সংখ্যা, সেলের সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন চেয়েছে উচ্চ আদালত। মৃত্যুদন্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কোনো আসামিকে কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা একটি রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন দেবেন বলে হাইকোর্টকে জানান। আদালত আগামী ৩১ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য রাখে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

কনডেম সেলে থাকা তিন বন্দির পক্ষে সম্প্রতি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। এ তিনজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের আবেদন) ও আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন। আবেদনের বরাতে শিশির মনির জানান, মৃত্যুদন্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিকে কনডেম সেলে আবদ্ধ রাখা কেন আইনগত কর্র্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুলের আরজি জানানোর পাশাপাশি রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় তিন রিট আবেদনকারীদের কনডেম সেল থেকে স্বাভাবিক সেলে স্থানান্তরের আরজি জানানো হয়েছে। এছাড়া আবেদনে দেশের সব কারাগারের কনডেম সেলে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাখার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শককে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারামতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়েরের বিধান রয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদন্ড বহাল রাখলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাংবিধানিক অধিকারবলে আপিল বিভাগে আপিল করতে পারেন। পাশাপাশি সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদনের আইনগত সুযোগ রয়েছে। সর্বোপরি, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি ক্ষমার আবেদন নামঞ্জুর করলে মৃত্যুদন্ড কার্যকরে আইনগত বৈধতা লাভ করে। কিন্তু দেশে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণার পরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কনডেম সেলে বন্দি হিসেবে রাখা হয়।