দেশে প্রতি ৫ জন তরুণের ১ জন হৃদরোগের ঝুঁকিতে

দেশে প্রতি বছর অসংক্রামক রোগে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এই সংখ্যা মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে ৩৬ শতাংশই হৃদরোগী। সে হিসাবে অসংক্রামক রোগে বছরে যত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে হৃদরোগজনতি কারণে। এমনকি দেশে প্রতি পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজন হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। একইভাবে বিশ্বে প্রতি বছর হৃদরোগে অন্তত ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ মারা যায়। হৃদরোগে মৃত্যুর ৮০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এমন অবস্থার মধ্য দিয়েই আজ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হৃদরোগ দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘হৃদয় দিয়ে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিন’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হৃদরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

দেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশে কয়েক বছর ধরে হৃদরোগের চিকিৎসা বেড়েছে। তবে এখনো তা বেশিরভাগই শহরকেন্দ্রিক। প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরা চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন। তা ছাড়া হৃদরোগ সম্পর্কে  সাধারণ মানুষের অসচেতনতা ও চিকিৎসাসেবার খরচ বেশি হওয়ায় চিকিৎসার আওতার বাইরে থাকছেন অসংখ্য রোগী।

এ ব্যাপারে রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, পৃথিবীজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাদ্য গ্রহণ হৃদরোগের অন্যতম কারণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ট্রান্সফ্যাট একটি ক্ষতিকর খাদ্য উপাদান, যা হৃদরোগ ও হৃদরোগজনিত অকাল মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করতে না পারলে দেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে, চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়বে এবং আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, ‘তরুণরা ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার বেশি খেয়ে থাকে। খাদ্যদ্রব্য থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করা না গেলে তরুণ প্রজন্ম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’

কর্মসূচি : রক্তনালির রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে মাসজুড়ে কর্মসূচি নিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হেলদি হার্ট হ্যাপি লাইফ অর্গানাইজেশন (হেলো) এবং আইপিডিআই (ইন্টারেকটিভ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস) ফাউন্ডেশন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ ঢাকার চারটি পার্কে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচার। সেখানে রক্তচাপ পরিমাপ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ, স্বাস্থ্যবার্তা পরামর্শ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকার পাঁচটি ট্রাফিক সিগনালে স্বাস্থ্য সচেতনতায় স্বাস্থ্যবার্তা প্রচার, টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্পেইন ও হদরোগ সচেতনতাবিষয়ক পুস্তিকা বিতরণ করা হবে।