কমিশন একা নির্বাচন সুষ্ঠু করাবে এটা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে নাই: সাখাওয়াত হোসেন

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একা নির্বাচনকে সুষ্ঠু করাতে পারবে এটা দুনিয়ার কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বলা নাই।

তিনি বলেন, দেশে যেকোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনারের আছে। কিন্তু তারা তাদের দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে না।

সোমবার দুপুরে সাভারে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের আয়োজনে ‘ইঙ্গ-মার্কিন প্রচারণা এবং আফগানিস্তান প্রশ্নে তালিবান’ শীর্ষক সেমিনার শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।  

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয় না। দেশের মানুষ যদি ৭০ শতাংশ ভোট দিত তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হতো। পৃথিবীর কোনো দেশেই নির্বাচন শতভাগ নিরপেক্ষ হয়েছে এটা কেউই বলতে পারবে না। আমাদের দেশেও কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে হেরে গেলে বিরোধী দলের বিষয়ে কারচুপির অভিযোগ তোলেন। নির্বাচন কমিশন শুধু একা নির্বাচনকে সুষ্ঠু করাতে পারবে এটা দুনিয়ার কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বলা নাই’।

তিনি আরও বলেন, দেশে সরকার, রাজনৈতিক দল, ভোটার এবং সর্বশেষ বিচার বিভাগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে বিচার বিভাগ যদি কোনো চাপের মুখে না থাকে, তাহলে দেশে যে ধরনের নির্বাচন হচ্ছে এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের সামনে দাঁড়াতে হতো। কিন্তু আমাদের দেশের সে রকম অবস্থা না থাকায় বিচার বিভাগ নির্বাচন কমিশনকেও সাপোর্ট করতে পারছে না এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকেও নয়।  নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানের মাধ্যমে প্রচুর ক্ষমতা দেওয়া আছে’।

নির্বাচন কমিশনকে সচিব পর্যন্ত বরখাস্তের ক্ষমতা দেওয়া আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১১৯ এ বলা আছে নির্বাচন কমিশন অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দায়ী’।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রাহমান চৌধুরী।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আফগান তালেবানরা ২০ বছর স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে যদি মুক্তিযোদ্ধা না হয় তবে আমরা নয় মাস যুদ্ধ করে কীসের মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের উচিত হবে তাদের সমর্থন দিয়ে দেশ পরিচালনায় সহায়তা করা এবং তাদের সাহায্য করা। বাংলাদেশ সরকারের উচিত তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে সে দেশে দূতাবাস চালু করা।

এ ছাড়া এনজিওগুলোকে আফগানিস্তানের উন্নয়নে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

এম সাখাওয়াত হোসেন আফগানিস্তানে আমেরিকার আগ্রাসনের পটভূমি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে যেমন বালিকা বিদ্যালয় আছে আফগানিস্তানে তালিবানও সেটি করতে যাচ্ছে।

সেমিনারে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেই আমেরিকার ওয়াশিংটনে ছিলাম, সেখানে মেয়েরা যতটা না নিরাপদ আফগানিস্তানে বর্তমানে মেয়েরা তার চেয়ে বেশি নিরাপদ। আফগানিস্তান থেকে লিথিয়াম লুট করার চেষ্টায় ছিল আমেরিকানদের প্রধান লক্ষ্য।

এ ছাড়া সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।