এক সময় ঢাকার শিল্প জগতে পরিচিত ছিলেন পরিব্রাজক ও লেখিকা মেরি ফ্রান্সেস ডানহাম। বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য, সংগীত ইতিহাস-ঐতিহ্যও কাজ করেছিলেন তিনি।
ডানহাম পরিবারের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, গত সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মেরি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
মেরির সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল লেখক ও বুদ্ধিজীবী আহমেদ ছফা। সে কথা ফেইসবুকে স্মরণ করেছেন ‘গাভী বৃত্তান্ত’ লেখকের ভ্রাতুষ্পুত্র নূরুল আনোয়ার।
মৃত্যুর খবর দিয়ে তিনি বলেন, “মেরি ডানহাম ছিলেন আমেরিকান। ১৯৬৮ সাল থেকে অনেক বছর মেরি-ডানহাম দম্পতি বাংলাদেশে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে তারা দুজন অনেক কাজ করেছেন। বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্য সংগীত ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে এত কাজ করেছেন যা কল্পনাতীত। ১৯৯৬ সালে লেখক আহমদ ছফার সঙ্গে মেরির বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। আহমদ ছফা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক অটুট ছিল।
‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ’ প্রকাশিত হওয়ার পর পরই আহমদ ছফা সেটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন। তার অনুলিখন করেছিলেন প্রিসিলা রাজ। তার পরে আহমদ ছফা এবং মেরি মিলে অনুবাদকর্মটি ঘষামাজা করেছিলেন। প্রতিদিন খুব সকালে মেরি সাইকেলে চেপে বাংলামোটরের বাড়িতে আসতেন এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে কাজ করতেন। এ অনুবাদটি পেঙ্গুইন থেকে প্রকাশ করবেন সে দায়িত্বও তিনি গ্রহণ করেছিলেন। সেটি আর হয়নি। ইতিমধ্যে আহমদ ছফাও মারা যান। সেই ইংরেজি অনুবাদটি আমার সম্পাদনায় খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি থেকে গত চার পাঁচ বছর আগে প্রকাশ পেয়েছে। বইটি তাকে উৎসর্গ করেছিলাম।”
বিকল্প পরিবহন হিসেবে বাইসাইকেলে ভ্রমণের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত মেরি ফ্রান্সেস ডানহাম ১৯৩২ সালের ২৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
মেরি বাংলাদেশের জারিগান সংগ্রহ করে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। তাতে আহমদ ছফারও একটি জারিগান ছিল। ‘জারিগান: মুসলিম এপিক সংস অব বাংলাদেশ’ নামের বইটি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) থেকে প্রকাশিত হয়। লিখেছেন ‘লিভিং ইন ঢাকা: আ শপিং অ্যান্ড ইনফরমেশন গাইড’, যা ঢাকা নিয়ে প্রথম ইংরেজি গাইডবুক হিসেবে স্বীকৃত। এ ছাড়া তার লেখা ও সম্পাদনায় আরও কিছু বই প্রকাশ হয়েছে।