ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি প্রতি বছর জমকালো আয়োজনে নিজের জন্মদিন পালন করেন। এ বছরের জন্মদিনটা ছিল অন্য বছরগুলোর চেয়ে বিশেষ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে পরীমণি এবার হাজির হলেন একেবারে ফুরফুরে মেজাজে, পরীর মতোই উড়লেন, ওড়ালেন আগত অতিথিদের। ২৪ অক্টোবর রাতে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলের মিলনায়তন সাজিয়ে নিয়েছিলেন বিমানের ককপিটের আদলে। অনেকেরই উৎসুক জিজ্ঞাসা ছিল ককপিট কেন? পরীমণি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও এটা স্পষ্ট যে গত বছরের জন্মদিনের সামান্য ভুলের কারণে যে সমালোচনা হয়েছিল পরীমণি হয়তো তার জবাব দিতেই ককপিটের আদলে সাজালেন জন্মদিন অনুষ্ঠানের মিলনায়তন। গত বছর পরীমণি সেজেছিলেন ময়ূর বেশে। পাঁচ তারকা হোটেলে সেবার অনুষ্ঠানে আসা সাংবাদিকদের কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করার সময় ভুলে ইংরেজিতে ময়ূরকে ‘পিকক’ বলতে গিয়ে ‘ককপিট’ বলে ফেলেছিলেন। এরপর তা নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়েছিল। এবারের জন্মদিনে ককপিটের আদলে সাজানো মঞ্চ থেকে গানের তালে নাচতে নাচতে পরী নেমে আসেন নিচে। নাচতে নাচতেই আগত অতিথিদের স্বাগত জানান। কাউকে জড়িয়ে ধরলেন ভালোবেসে, কারও সঙ্গে আবার নাচলেন। তার এবারের জন্মদিনের স্লোগান ছিল ‘ফ্লাই উইথ পরীমণি (পরীর সঙ্গে ওড়ো)’। আর মানুষের উড়তে গেলে বিমান ছাড়া বিকল্প নেই। তাই এই অনুষ্ঠানে ছিল বোর্ডিং পাস, আসন, অ্যাপায়নসহ সবকিছু। পরী নিজেও সেজেছিলেন বিমানবালার সাজে। তিনি পরেছিলেন লাল-সাদার মিশ্রণে তৈরি বিশেষ কায়দার শর্ট লুঙ্গি, সঙ্গে লাল শার্ট ও মাথায় লাল টুপি। নিজের ফ্যাশনে এবারও ভিন্নতা আনেন পরী। আর পুরোটা সময় জুড়ে লুঙ্গি ডান্সে মেতেছিলেন এই নায়িকা। গানের তালে তালে পরীর এমন ওড়াউড়ি যেন সঙ্গে সেই স্লোগানের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার। নানাকে নিয়ে কেক কাটেন। এরপর কিছুক্ষণ কেক নিয়ে উচ্ছলতা চলে। কেক কাটা পর্ব শেষ করেই অতিথিদের শুভেচ্ছা উপহার গ্রহণ করেন। অতিথিরাও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন। আর প্রতিটি উপহার পাওয়ার পর পরীর উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধভাঙা। তবে এবারের জন্মদিনে উপস্থিত গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করেননি পরী। গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধের জবাবে পরী বলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান। আপনাদের ভালোবেসে ডেকেছি, নিউজ করার জন্য নয়। আপনারা আমার আমন্ত্রণে এসেছেন, এতেই আমি খুশি।’
পরীমণির জন্মদিনে উপস্থিত ছিলেন নায়ক, নায়িকা, পরিচালক, গণমাধ্যমকর্মীসহ নানা মাধ্যমের তারকারা। পরীমণি হাতে থাকা ‘গুনিন’ ও ‘প্রীতিলতা’ সিনেমার টিম উপস্থিত ছিল। উপস্থিত ছিলেন নায়ক সাইমন সাদিক, কণ্ঠশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা, পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম, চয়নিকা চৌধুরী, রাশিদ পলাশ, পরিচালক অপূর্ব রানা, দেবাশিষ বিশ্বাস, বুলবুল বিশ্বাস, অভিনেতা আমান রেজা, শরিফুল রাজসহ অনেকে।
জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতেই পরীমণি ‘গুনিন’ সিনেমার সেট থেকে বিরতি নিয়ে ঢাকা ফেরেন। ১১ অক্টোবর থেকে তিনি নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন এই সিনেমার কাজ করছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে মানিকগঞ্জে। এ ছবিতে তার নায়ক শরিফুল রাজ। ‘গুনিন’ সিনেমায় পরীমণি-শরিফুল রাজ ছাড়াও আছেন ইরেশ যাকের, মোস্তফা মনোয়ার, আজাদ আবুল কালামসহ অনেকে।
এদিকে, জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা অরণ্য আনোয়ারের সিনেমা ‘মা’তে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন পরীমণি। একটি মর্মান্তিক সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন অরণ্য আনোয়ার নিজেই। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে মৃত ঘোষিত সাত মাস বয়সী এক সন্তানকে নিয়ে তার অসহায় মায়ের আবেগের গল্পই উঠে আসবে এতে। আর সেই মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন পরীমণি। তার ভাষায়, ‘যখন শুনি কোনো নির্মাতা প্রথমবার ছবি নির্মাণ করতে চাইছেন, খুব ভালো লাগে। আমি সব সময় এমন নির্মাতাদের পাশে থাকতে চাই। আর অরণ্য আনোয়ারকে তো চিনি যখন আমি টিভি দর্শক, তখন থেকেই। ফলে তার প্রতি আগে থেকেই একটা মুগ্ধতা ছিল। এগুলোও বিষয় না, দিনশেষে মূল বিষয় গল্পের শক্তি। সেই শক্তিটা আমি এই চিত্রনাট্যে পেয়েছি। এমন চরিত্রে আমি আর কাজ করিনি। আমার তো মা নেই। এবার সেই মায়ের চরিত্রেই অভিনয় করব। আশা করছি নিজেকে ভাঙতে পারব।’