ফরিদপুর রেড ক্রিসেন্ট সমিতির নির্বাচন নিয়ে প্রহসনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান কমিটির নেতারা তাদের পদ-পদবি বহাল রেখে সংগঠনকে আগামী মেয়াদের জন্য কুক্ষিগত করে রাখার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে সদস্যদের অভিযোগ।
জানা যায়, সমিতির নির্বাচনের জন্য আইওয়াশ হিসেবে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন এবং ঘোষণা করা হয়েছে তফসিল। তবে সংগঠনের ২ হাজার ১১৮ জন সদস্যের মধ্যে বেশিরভাগই নির্বাচনের বিষয়টি জানেন না। সাতটি পদে নির্বাচন হবে, গুনে গুনে সাতটিই ফরম বিক্রি হলো। ফরমগুলো জমা হয়েছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন গত ৮ ডিসেম্বর। তারপরই জানাজানি হলো বিষয়টি। ফরম জমা দেওয়া আগের কমিটির সাতজনই পুনরায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ক্ষুব্ধ সদস্যরা এ গোপন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সমিতির সদস্য শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি জানতাম দুই-তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে। ভাইস চেয়ারম্যান কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার ইচ্ছে ছিল। আমরা চেয়েছিলাম সবাইকে নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এরকম প্রহসনের নির্বাচন আমরা চাইনি।’
আরেক সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ঝর্ণা হাসান বলেন, ‘আমি সমিতির একজন সদস্য। অথচ সমিতির কখন সভা হয়, কখন নির্বাচন হয় জানি না। আমাদের জানানোও হয় না। যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে সেটি ফরিদপুরের নিয়মিত নয়। মাসে বা তিন মাসে একবার ছাপা হয়।’
সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং পাঁচটি সদস্য পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে সভাপতি। সভাপতির মনোনীত তিনজন সদস্যসহ মোট ১১ সদস্য নিয়ে তিন বছর মেয়াদি নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়।
সমিতির অফিস সহকারী পাভেল রহমান জানান, নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন আলী আশরাফ পিয়ার। সহকারী দুই নির্বাচন কমিশনার তুষার দত্ত ও এসএম জাহিদ। গত ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা হয়। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ তারিখ ছিল ৬ ডিসেম্বর এবং জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৮ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে ৩০ ডিসেম্বর।
অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশনার আলী আশরাফ পিয়ার বলেন, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অস্বচ্ছতা ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় একটি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিষয়টি সদস্যদের জানানো হয়েছে।’