কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালংয়ের সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার ছাত্রকে অপহরণের পর রোহিঙ্গাদের একটি চক্র ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে বলে অভিযোগ করেছে অপহৃতদের পরিবার। তাদের অভিযোগ গত মঙ্গলবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ওই চার ছাত্রকে কৌশলে অপহরণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তিপণ দাবি করেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে রামু থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
রামু থানা পুলিশ জানায়, অপহৃতরা হলো রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপের মাঙ্গালাপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ কায়সার (১৪), একই এলাকার মোহাম্মদ আলমের ছেলে মিজানুর রহমান নয়ন (১৪), আব্দুস সালামের ছেলে জাহেদুল ইসলাম (১৫) ও ফরিদুল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (১৪)। তাদের মধ্যে জাহেদুল ইসলাম সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণি ও বাকিরা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
অপহৃতদের প্রতিবেশী হাজি আবদুস শুক্কুর জানান, স্থানীয় বাতিঘর রিসোর্টের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ও মো. ইব্রাহীমের সঙ্গে ওই স্কুলশিক্ষার্থীদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের সেন্টমার্টিন বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ফিরে না আসায় অভিভাবকরা খোঁজখবর নিলে রোহিঙ্গারা তাদের জীবিত ফিরে পেতে হলে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কোনো উপায় না দেখে অভিভাবকরা রামু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রামুর পেঁচারদ্বীপের বাতিঘর নামে একটি কটেজের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ও মো. ইব্রাহীমের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হয় চার স্কুলছাত্রের। সে সুবাদে গেল ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীম চার স্কুলছাত্রকে সেন্টমার্টিন বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় নিয়ে যায়। মূলত ইব্রাহীম ও জাহাঙ্গীর দুজনই রোহিঙ্গা ছিল। সেখানে বেড়াতে যাওয়ার পর থেকে ওই চারজনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর ৮ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে স্বজনদের কাছে বিভিন্ন অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে তাদের মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। অন্যথায় তাদের লাশ ফেরত দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২৬নং ব্লকের মোহাম্মদ কাছিমের ছেলে ও তার সহযোগী মোহাম্মদ ইব্রাহীমের বাড়িও সেখানে। তারা দুজনই বাতিঘর কটেজের বয় হিসেবে কর্মরত ছিল।
স্কুলছাত্র জাহেদুল ইসলামের বাবা আব্দুস সালাম বলেন, ‘বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে গেছে ওই দুজন। যাওয়ার পর থেকে যখন বাড়ি ফিরছে না, তখন খোঁজখবর নিতে ফোন দিলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীমের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বুধবার দুপুরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী পরিচয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করছে।’
অপহরণের শিকার কায়সারের চাচা মোহাম্মদ তাহের বলেন, মূলত জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীম চারজনকে সেন্টমার্টিন বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। পরে তাদের মুঠোফোন ব্যবহার করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। ২০ লাখ টাকা কোথা থেকে দিব আমরা।’
রামু খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার সোহেল সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অপহৃত স্কুলশিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে রামু থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। রামু থানা পুলিশ এ বিষয়ে যাবতীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে শুনেছি।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রামু থানার ওসি (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, যেহেতু বিষয়টি টেকনাফ থানায় এলাকায় পড়েছে। আমরা তাদের সহযোগিতায় বিষয়টি তদন্ত করব। নিজেদের জায়গা থেকে যতটুকু পারা যাবে ততটুকুই চেষ্টা করবে পুলিশ।