জিয়াউল আহসানের ফ্ল্যাটের সম্পদের তালিকা করল দুদক

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

আদালতের নির্দেশে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের জলসিঁড়ি প্রকল্পে থাকা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দিনভর অভিযানে ভবনটির অষ্টম ও নবমতলায় থাকা ফ্ল্যাটের বিভিন্ন মালামালের তালিকা করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা প্রস্তুত করেছে। আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা সম্পদের সঠিক বিবরণ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ এপ্রিল জিয়াউল আহসানের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। আদেশে জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৩৯টি স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয় ১৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৭ টাকা। এসব সম্পত্তি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত। সম্পত্তিগুলোর মধ্যে জমি, কৃষিজমি, বাগানবাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া তার নামে ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত। দুদক সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের জলসিঁড়িতে অবস্থিত ভবনটি আদালতের আদেশে ক্রোক করা সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। আদেশ অনুযায়ী ভবনের বিভিন্ন কক্ষে থাকা আসবাব, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী, গৃহস্থালি সরঞ্জামসহ অন্যান্য মালামালের তালিকা করা হয়েছে। ইনভেন্টরি শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তাদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে এক মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় অনুমোদিত সীমার বেশি ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার নিজের হিসাবে রাখার অভিযোগও আনা হয়। এ ছাড়া আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। এসব অর্থ স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা ও যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়। অপর মামলায় নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার চারটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে দুদক। মামলার তদন্ত এখনো চলমান।

এদিকে এর আগের দিন ১৯ জুলাই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরি শুরু হয়। গতকাল সোমবার ইনভেন্টরি শেষ হয়। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বাড়িতে অভিযানকালে প্রথম দিন তিন শতাধিক কোট, ৫৩২টি টাই, শতাধিক কামিজ, চারটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডসহ ৮টি ওয়াচ বক্স, বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার সেট তিনটি, ঝাড়বাতি চারটি, বেড ও সোফা পাওয়া যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত