ফ্যামিলি কার্ডের নির্ভুল ডেটাবেজ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

অনিয়ম এড়িয়ে প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি সঠিক ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গতকাল সোমবার ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল আওয়াল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে পরিবার শুমারির তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই শেষে আগামী অক্টোবর থেকে সারা দেশে পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি উপজেলায় গড়ে অন্তত ৮ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই দিন দেশের ১৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু করা হয়। কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে।

সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করার নির্দেশ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং সহজপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকরা যেন রোগীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হন, সে বিষয়েও তিনি নির্দেশনা দেন।

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকেলে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বৈঠক করেন। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে তিনি জানতে চান।

উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবেই হোক, গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে ভোগান্তিবিহীন সেবা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকারি হাসপাতালই সবার ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে।’

প্রধানমন্ত্রী কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং আগামী ৩ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়লাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গণপূর্তের প্রকৌশলীরা অবকাঠামোর নকশাসহ খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত