শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেনের ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) বন্ধের মেয়াদ ১০ দিন বাড়িয়ে আগামী ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে কুয়েটের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও তথ্য শাখার মুখপাত্র রবিউল ইসলাম গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
কুয়েট কর্র্তৃপক্ষ জানায়, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত ৩ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভায় কুয়েট ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা এবং ওইদিন বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ওইদিন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তদন্ত কমিটি এখনো তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেনি। তদন্ত কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ক্যাম্পাস বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
গত ৩০ নভেম্বর বিকেলে মারা যান কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান ও তার সহযোগীরা তাদের পছন্দের ছাত্রকে লালন শাহ হলের ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচনের জন্য প্রভোস্ট সেলিম হোসেনকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিমকে জেরা শুরু করেন। পরে তারা ওই শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী ছাত্রলীগ কর্মীরা আনুমানিক আধা ঘণ্টা শিক্ষকের কক্ষে ছিল। পরে ওই কক্ষ থেকে বেরিয়ে ড. সেলিম দুপুরের খাবার খেতে ক্যাম্পাস থেকে নিজ বাসায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগ ওঠে, দাপ্তরিক কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা সেজানের নেতৃত্বে জেরা, অপমান, অবরুদ্ধ করে রাখা ও মানসিক নির্যাতনে ড. সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে দু’দফায় কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারসহ কয়েকটি দাবিতে গত ২ ডিসেম্বর আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে কুয়েট কর্র্তৃপক্ষ।
এদিকে শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ নেতা সেজানসহ ৯ ছাত্রকে কুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।