যৌতুক: চুল-ভ্রু কেটে স্ত্রীকে নির্যাতন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নে যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে (৩০) শারীরিক নির্যাতন ও মাথার চুল- ভ্রু কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান সুজন (৪৩) একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। রবিবার ওই গৃহবধূকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওই গৃহবধূর স্বজনেরা জানান, ২০০৬ সালে মেহেদী হাসান সুজনের (৪৩) সঙ্গে তাড়াশ উপজেলা সদরের ওই গৃহবধূর (৩০) বিয়ে হয়। তাদের দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে সুজন যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এ ছাড়া স্ত্রী সুন্দরী হওয়ায় তার স্বামী তাকে পরকীয়ার সন্দেহ করতেন।

তারা আরো জানায়, দাবি অনুযায়ী যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিস হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় ২০১৮ সালে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে ওই গৃহবধূ বাবার বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নেন।

এ বিষয়ে নির্যাতিতা মা জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাট, আলমারিসহ প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার জিনিসপত্র দিয়েছি। ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা বিবেচনা করে আবারও তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাকে আবারও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

ওই গৃহবধূ জানান, বিয়ের পর থেকেই কখনো নগদ টাকা, কখনো মোটরসাইকেল, কখনো মোবাইল ফোন বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এ ছাড়া পরকীয়া সন্দেহে প্রায়ই তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করত তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোকনুজ্জামান জানান, ওই গৃহবধূর সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। তবে নির্যাতনের ফলে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান সুজন বলেন, আমার স্ত্রী এক প্রবাসীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত। প্রায়ই সে তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে। তাই রাগের মাথায় এ ঘটনা ঘটিয়েছি। যৌতুকের অভিযোগ সত্য নয়।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে গিয়ে নির্যাতিত গৃহবধূর মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি ও দ্রুত মামলা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, তার মেয়ে একটু সুস্থ হলেই তিনি মামলা করবেন। এখনো এ বিষয়ে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।