বিএনপির ৭ শতাধিক নেতাকর্মী আসামি, বাদ সেই অস্ত্রধারীরা

সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ৭ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় এসব মামলা করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা রয়েছেন। কিন্তু সংঘর্ষের দিন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যাওয়া যুবকদের কাউকে আসামি করা হয়নি। এখন পর্যন্ত পুলিশ তাদের চিহ্নিতও করেনি।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, চার মামলার মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি ও উজ্জ্বল হোসেন নামের এক আওয়ামী লীগের কর্মী বাদী হয়ে অপর মামলাটি করেন।

তিনি জানান, মামলায় আসামিদের মধ্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সহসভাপতি আজিজুর রহমান দুলাল, সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানাসহ একাধিক শীর্ষ নেতা রয়েছেন।

সাজ্জাদুর রহমান জানান, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফিজুর রহমান বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এসআই আলীম হোসাইন বাদী হয়ে করা মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসআই মাহমুদ হাসান বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০-৩০০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ শহরের রেলওয়ে কলোনি এলাকার আওয়ামী লীগকর্মী উজ্জ্বল হোসেন বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে অপর মামলাটি করেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিএনপি সমাবেশের আয়োজন করে। দলের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় শহরের কলেজ রোড, ইলিয়ট ব্রিজ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়। ওই দিন সন্ধ্যার পর সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে চার যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। গণমাধ্যমেও তাদের ছবি ছাপা হয়। ওই চার যুবককে সদর থানা পুলিশ এখনো শনাক্ত করতে পারেনি। এ বিষয়ে স্থানীয়রাও মুখ খুলতে নারাজ।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসেন আলী হাসান ও সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা তাদের দলের কেউ না। এমনকি তাদের তারা চেনেনও না।

তবে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, ‘ওরা যুবলীগের হয়ে আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করেছে। কাজেই আমরা ধরে নেব ওরা যুবলীগের কর্মী।’ তিনি আরও বলেন, ওই দিনের হামলার ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে তারাও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও ও ঘটনাস্থলের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। যদি কেউ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে থাকেন, তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।