কমিউনিটি ক্লিনিকেও করোনার টিকা দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কমিউনিটি ক্লিনিকেও করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে হবে বলে মন্তব্য করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি শনিবার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে করোনার বুস্টার ডোজ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জানুয়ারিতে ৪ কোটি ডোজ টিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এপ্রিল-মে মাসে বাংলাদেশের ১২ কোটি মানুষকে আমরা সেকেন্ড ডোজ দিয়ে দিতে পারব। পাশাপাশি বুস্টার ডোজও আমরা দিয়ে দিতে পারব। এ কাজকে বেগবান করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে টিকা দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে সরকারের লকডাউন দেওয়ার আর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সংক্রমণের হার বাড়লে লকডাউনে যেতে হতে পারে।’

বুস্টার ডোজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. শামসুল হক, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন, সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান প্রমুখ। 

গান মুক্তিযুদ্ধকে অনুপ্রাণিত করেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গান আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শিল্প-সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিল্প-সাহিত্যের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় সিংগাইর উপজেলার জয়মণ্টপ ইউনিয়নের পূর্ব ভাকুম গ্রামে স্থানীয় সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের প্রয়াত বাবা মধু বয়াতির নামে তিন দিনব্যাপী ‘মধুর মেলা’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মহামারী করোনাকে মোকাবিলা করেছি। ইতিমধ্যে ১২ কোটি মানুষ করোনার টিকার আওতায় এসেছে। এখন মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ বছর হয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, শিক্ষা খাত ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে শান্তি বজায় রাখতে হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখতে হবে। আর গানের মাধ্যমে সৃষ্টি হবে সতেজ মন।’ 

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শহিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

করোনা মহামারীর কারণে গত বছর বন্ধ থাকলেও এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলা আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ মেলা। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে তা একাধিক দিন পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মেলার মূল আকর্ষণ উপমহাদেশের বিখ্যাত বাউলশিল্পীদের অংশগ্রহণে লোকজ ও পালাগানের অনুষ্ঠান। প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাতব্যাপী চলবে মেলায় গানের আসর ।

প্রথম দিনে গান পরিবেশন করেন শাহ আলম সরকার ও কাজল দেওয়ান। দ্বিতিয় দিন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ফোক, বাউল, কাওয়ালি, বিচ্ছেদ, মরমি, আধুনিক ও পালাগানের খ্যাতনামা শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। মেলার শেষ দিন ওপার বাংলার শিল্পীদের অংশগ্রহণে কবিগানের আসর হবে।