জাতীয় পার্টির (জাপা) ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির নেতারা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়। এতে জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও তার অনুসারীরা অংশ নেন। অন্যদিকে রাজধানীর বনানীতে আরেক অনুষ্ঠান করেন জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা।
আলোচনা সভায় জিএম কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও দেশে কখনো গণতন্ত্রের চর্চা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে ছিল না। এরশাদের সময়ে তুলনামূলক ভালো ছিল। এখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোট ডাকাতিতে জড়িত থাকছে। এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক। ভিন্নমতের লোকদের মাঠে দাঁড়াতেই দিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা। ক্ষমতার জোরে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে চাইছে। এক সময়ের উৎসবমুখর নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশাসনের সহায়তায় কলুষিত করা হচ্ছে।’
এ অনুষ্ঠানে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘এরশাদ ক্ষমতা নয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য পার্টি গঠন করেছিলেন।’
জাপা মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ‘আমরা কোনো জোটে যাব না। জিএম কাদেরের নেতৃত্বে কেউ আসতে চাইলে ভেবে দেখব। জনগণ চায় জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ক্ষমতায় আসুক।’
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভা শেষে জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক শেরীফা কাদের এমপির তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
অন্যদিকে সকালে বনানীর প্রেসিডেন্ট পার্কে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠানে ছেলে এরিক এরশাদকে নিয়ে অংশ নেন বিদিশা। জাপার ‘পুনর্গঠন’ প্রক্রিয়ায় জড়িত এ নেত্রী বলেন, ‘মাত্র কয়েক মাস পর এরিকের বয়স ২১ বছর হবে। অপেক্ষা করুন। সামনে জাতীয় পার্টিতে চমকের পর চমক আসবে। ভুলে গেলে চলবে না, এরশাদ সেনা পরিবারের সদস্য ছিলেন। এরিক আজ একা না। এরিকের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার ও এরশাদকে যারা ভালোবাসেন, তারা আছেন।’
তিনি বলেন, ‘এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার চেয়ারম্যান হয়েছেন তার ভাই জিএম কাদের। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে আছেন এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন। রওশন খুব অসুস্থ, ব্যাংককে চিকিৎসাধীন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বর্তমান চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পোস্টার থেকে এরই মধ্যে রওশনকে মুছে ফেলেছেন। এটি খুবই অমানবিক।’
এ ছাড়া গতকাল দুপুরে জাপার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন জাপার কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।