জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের কারণে পিছিয়ে গেছে পুলিশ সপ্তাহ। আগামী ১৬ জানুয়ারির পরিবর্তে ২৩ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে এ বছরের পুলিশ সপ্তাহ। শেষ হবে ২৭ জানুয়ারি।
দুই বছর পর হতে যাওয়া পুলিশ সপ্তাহ উদযাপনে পুলিশ সদর দপ্তর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে পুলিশ সপ্তাহ পেছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ডিসি সম্মেলন শুরু হবে ১৮ জানুয়ারি। শেষ হওয়ার কথা ২০ জানুয়ারি।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, আগামী ১০ জানুয়ারি ডিসি সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী পুলিশ সদর দপ্তর সরকারের হাইকমান্ড থেকে ১৭ জানুয়ারি দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয় পুলিশ সদর দপ্তর। কিন্তু কিছুদিন আগে ডিসি সম্মেলন পিছিয়ে করা হয়েছে ১৮ জানুয়ারি। সে কারণে পুলিশ সদর দপ্তর গতকাল আবারও তারিখ পরিবর্তন করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে ২৩ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনীর দিন চূড়ান্ত করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের পুলিশ সপ্তাহে ২০২০ এবং ২০২১ সালের সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং সেবার স্বীকৃতি হিসেবে যথারীতি চার ধরনের পদক দেওয়া হবে। তার মধ্যে ‘করোনাযুদ্ধে’ প্রাণ হারানো পুলিশের ১০৬ সদস্যকে দেওয়া হবে মরণোত্তর সর্বোচ্চ পদক ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল’ (বিপিএম-সাহসিকতা)।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, বছরে একবার বিশেষ এই আয়োজনের জন্য পুলিশ সদস্যরা মুখিয়ে থাকেন। পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপি, র্যাবসহ সারা দেশেই পুলিশের ইউনিটগুলো এ সময়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কিন্তু মহামারী করোনার প্রকোপের কারণে গত বছর পুলিশ সপ্তাহের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নানা প্রচেষ্টা ও পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা করা যায়নি। বর্তমান সময়ে করোনার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা ভালো হওয়ায় এবার পুলিশ সপ্তাহ আয়োজনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড মাঠে কুচকাওয়াজসহ নানা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সকে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট পদক মনোনয়ন কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে আরেকটি সভা করার কথা রয়েছে। কারা বা কতজন পদক পাচ্ছেন তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এরই মধ্যে মহামারী করোনাযুদ্ধে প্রাণ হারানো ১০৬ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বিপিএম’ পদকে ভূষিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশের দ্বিতীয় সারির সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘আইজিপি ব্যাজ’ পাচ্ছেন ৪০১ জন পুলিশ সদস্য। তিনি আরও বলেন, পুলিশ সপ্তাহের শেষ দিন ছয়টি বিশেষ ক্যাটাগরিতে মনোনীতদের এ পুরস্কার দেবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। প্রথম দিনের সব অনুষ্ঠানই হবে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে।
২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়েছিল। দাবিগুলো শুনে তিনি তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। তবে এখনো একটি দাবিও বাস্তবায়ন হয়নি। আবারও পুরনোসহ নতুন কিছু উত্থাপন করা হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত পুলিশ সপ্তাহ পাঁচ দিন হয়ে থাকে। এবার পুলিশ সপ্তাহ আয়োজনের জন্য অন্তত ছয় মাস আগে থেকে কাজ শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গঠন করা হয়েছে একাধিক টিম। সর্বশেষ চলতি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেন। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি অংশ নিলেও সশরীরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতনরা। এ ছাড়া পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দরবারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।