নদীতে নেতাদের শত শত ঘের, মৎস্যজীবীরা বেকার

শত শত ঘের দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর দেশি প্রজাতির সুস্বাদু মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত উপজেলার বারদী ইউনিয়নে নুনেরটেক এলাকার মাছ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কতিপয় রাজনীতিক ও প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

মেঘনা নদী তীরবর্তী নুনেরটেক এলাকার জেলেদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর শম্ভুপুরা ইউনিয়নের গজারিয়া থেকে বিষনন্দী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি সিন্ডিকেট মেঘনার বুক জুড়ে গাছের ডালপালা ও বাঁশ পুঁতে নিষিদ্ধ সুতি জাল ফেলে চারদিকে ঘের দিয়ে পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে। এভাবে মাছ শিকারের ফলে মাছসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য মেঘনায় নিষ্কাশন হলেও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ হয়ে আড়াইহাজার উপজেলার বিষনন্দী ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনার পানি এখনো টলটলে স্বচ্ছ। এই এলাকার নদীতে পাওয়া যায় দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ। গজারিয়া থেকে বিষনন্দী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ঘের দিয়ে ধরা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির বাইম, বাইলা, কৈ, শিং, মাগুর, পুঁটি, রুই, কাতলা, আইড়, চিতল, শৈল, কাঁচকি, বোয়াল, টেংরা, পাবদা, মলাসহ নানা প্রজাতির মাছ। এতে মারা পড়ছে পোনা এবং ধ্বংস হচ্ছে জলজ জীববৈচিত্র্য।

সোনারগাঁয়ের মেঘনায় ঘুরে দেখা যায় প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে বাঁশ পুঁতে ও গাছের ডালপালা ফেলে ঝোপ বানিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য। নদীর বুক জুড়ে সোনারগাঁ অংশের শম্ভুপুরা এলাকা থেকে নুনেরটেক পর্যন্ত কয়েকশ ঘের দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঘের দেওয়া হয়েছে মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত নুনেরটেক ও আনন্দবাজার এলাকায়। স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে তিন বছর ধরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে।

আবদুল আলী নামে নুনেরটেক গ্রামের একজন জেলে জানান, নেতারা সিন্ডিকেট করে নদীতে ঘের দেওয়ার কারণে স্থানীয় শত শত জেলে বেকার হয়ে পড়েছে। তারা নদীতে জাল ফেলতে পারছেন না। জাল ফেললে জেলেদের মারধর করা হচ্ছে।

নুনেরটেক গ্রামের বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলেন, নদীতে চারটি ঘের দিয়েছি। এখান থেকে যে আয় হবে তার অংশ ‘কিছু লোককে’ দিতে হবে। তাছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপহার হিসেবে মাছ দিতে হবে। সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুকবুল হোসেন জানান, একটি ঘের থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মাছ পাওয়া যায়। লাভের ৫০ ভাগ নেতাদের দিতে হয় আর ৫০ ভাগ টাকা যারা ঘের দেয় তারা ভাগাভাগি করে নেয়।

বারদী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক বলেন, আমাদের দলের লোকজন ও বিএনপির কর্মীরা এ ব্যবসায় জড়িত। নদী জুড়ে ঝোপ দেওয়ায় নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জেসমীন আক্তার বলেন, নদীতে ঘের দিয়ে মাছশিকারিদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।