অসংক্রামক রোগে মারা যাচ্ছে ১০ জনে ৭ জন

দেশে বিভিন্ন রোগে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে সাতজনই অসংক্রামক রোগে মারা যাচ্ছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই মারা যাচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগে। বয়স বিবেচনায় বেশি মৃত্যু হচ্ছে ৩০-৭০ বছর বয়সীদের। এসব মৃত্যু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বড় বাধা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘প্রথম জাতীয় অসংক্রামক রোগ সম্মেলন-২০২২’-এর প্রথম দিনে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান। সম্মেলন চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আছে এমন তিনজনের একজন কিডনি রোগে ভুগছেন, তা তারা নিজেও জানেন না। ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জনই জানেন না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের অর্ধেকের বেশি জানেন না উচ্চ রক্তচাপ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ১০০ জনের মধ্যে ৭৭ জন ওষুধ খাচ্ছেন, কিন্তু তাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই। একই অবস্থা ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও।

সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক ডা. শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, ৩৫ বছরের ওপরে ৫০ শতাংশ মানুষের উচ্চ রক্তচাপ আছে। দেশে উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস ও ক্যানসারসহ কয়েকটি রোগে ৭০ শতাংশ মানুষ মারা যায়। যারা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে। এজন্য আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অর্গানাইজিং কমিটির সায়েন্টেফিক সেক্রেটারি ডা. আলিয়া নাহিদ বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে দেখা যাবে ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জন জানে না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। মানুষ ফার্মেসিতে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে ওষুধ খাওয়া শুরু করে কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যায় না। এ কারণে দেশে অসংক্রামক ব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমাদের শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত সবার মধ্যেই জ্ঞানের অভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি বছর একবার করে অন্তত স্ক্রিনিং করতে হবে। স্ক্রিনিংয়ের শরীরের ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারলে ভালো। অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ডিমেনশিয়া, হার্টের নানারকম অসুখ, লিভারের সমস্যা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আমাদের সঠিক পরিকল্পনা করে, সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

সকালে উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন পিওর আর্থের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী, সাউথইস্ট এশিয়া রিজিওনাল এনসিডি অ্যালায়েন্সের চেয়ারপারসন ডা. মনিকা আরোরা, ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট (নির্বাচিত) অধ্যাপক ডা. আখতার হোসাইন, হেলথ ইকোনমিক ইউনিটের মহাপরিচালক ডা শাহাদাত হোসেন মাহমুদ। এ সেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ডা. সারওয়ার আলী।

এরপর বৈজ্ঞানিক সেশনে বক্তব্য দেন বৈজ্ঞানিক সেশনের চেয়ারম্যান আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. কে জামান, আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ডা. শামস এল আরেফিন, ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. অরুন জোস, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. রুবানা রাকিব, ডা. আফরিন ইকবাল, ডা. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।