গন্তব্যে পৌঁছাল জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা ঘটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ তার মহাজাগতিক পার্কিং স্পটে পৌঁছেছে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণের ৩০ দিনের মাথায় সেটি তার গন্তব্যে পৌঁছায়। তবে পুরোপুরি কাজ শুরু করতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যাবে। পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরের এই অবস্থান থেকেই মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীদের তথ্য পাঠাবে টেলিস্কোপটি।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মহাকাশে ৩১ বছর কাটানো হাবল স্পেস টেলিস্কোপ জীবনসীমার শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি হাবল টেলিস্কোপের স্থলাভিষিক্ত হবে। হাবলের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বড় এবং ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী এই টেলিস্কোপে হাবলে যা দেখা সম্ভব হয়নি, ওয়েব টেলিস্কোপ মানুষের সামনে সেই অজানা রহস্য হাজির করবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির সময়কার নানা তথ্য জানা যাবে। অর্থাৎ মহাকাশ বিজ্ঞানীদের ১৪০০ কোটি বছর পেছনে যাওয়ার সুযোগ দেবে সর্বাধুনিক এ মহাকাশ টেলিস্কোপ। নাসার তথ্যমতে, পৃথিবীর প্রথমাবস্থায় নক্ষত্র, ছায়াপথ কেমন ছিল, সেসব তথ্য জানাবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার চারটি ক্ষেত্র যথা আলোর উৎস, এক্সোপ্লানেট, মহাবিশ্বের গঠন ও সৌরজগতের বাইরের সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডলীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

টেলিস্কোপটি মহাকাশে প্রতিস্থাপনে সাফল্যের ঘোষণা দিয়ে নাসার প্রশাসক বিল নেলসন বলেন, ওয়েবটি গ্রীষ্ম নাগাদ তার সায়েন্টিফিক মিশন শুরু করবে, হাই রেজ্যুলেশন ইনফ্রারেড লাইট ব্যবহার করে বিগ ব্যাংয়ের সময়ের দিকে ফিরে তাকাবে এবং প্রথম প্রজন্মের গ্যালাক্সির গঠন প্রক্রিয়ার রহস্য উন্মোচন করবে।

তিনি জানান, ইনফ্রারেড বা অবলোহিত স্পেকট্রামে কাজ করবে এই টেলিস্কোপ, যে অবজেক্টের ওপরে এটি ফোকাস করবে, সেখান থেকেই ইনফ্রারেড লাইট সংগ্রহ করবে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য এটিকে অন্যান্য টেলিস্কোপের তুলনায় আরও কার্যকরভাবে সময়মতো একাধিক মূল্যবান জিনিস দেখতে সাহায্য করবে।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ফ্রেঞ্চ গায়ানাতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির লঞ্চপ্যাড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি। এই টেলিস্কোপ লঞ্চের কথা ছিল ২০০৭ সালে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেই স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির হাজার কোটি ডলারের ফসল জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি যার খরচ ধরা হয়েছিল ১০ থেকে ২০ কোটি ডলার, তা শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ১০০০ কোটি ডলারে। প্রকল্পের নকশা থেকে শুরু করে মহাকাশ যাত্রার মাঝে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ নিয়ে প্রায় ৩০ বছর পরিশ্রম করেছেন বিজ্ঞানীরা।