আ.লীগ থেকে এমপি একরামুলকে বহিষ্কারের সুপারিশ

নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) একরামুল করিম চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পদ-পদবি থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার এবং অব্যাহতির জন্য দলীয় হাইকমান্ডে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় এ সুপারিশ প্রস্তাব গৃহীত হয়।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং পৌরসভা নির্বাচনে সরাসরি দলের বিরুদ্ধে এবং নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ এবং প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি এবং চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভায় অ্যাডহক কমিটির ৭০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ৮০ শতাংশ সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে এই সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবিবার (আজ) এ সংক্রান্ত চিঠি আওয়ামী লীগ সভাপতি-সম্পাদক বরাবর পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে শুরু হওয়া জেলা আওয়ামী লীগের এ কার্যকরী সভায় বক্তারা একরামুল করিম চৌধুরীর দল বিরোধিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সবাই একরামুল করিম চৌধুরীকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের দাবি তোলেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কারের সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে জানতে নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীনের সঞ্চালনায় সভায় যুগ্ম আহ্বায়ক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেল, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নোয়াখালী-৩ আসনের সাংসদ মামুনুর রশিদ কিরন, নোয়াখালী-৬ আসনের সাংসদ আয়শা ফেরদৌস, সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলীসহ জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য উপস্থিত ছিলেন।