কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলী বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। দন্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ দাশ গত সোমবার এবং লিয়াকত গত রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন বলে জানান তাদের আইনজীবীরা।
আসামি প্রদীপের পক্ষে এ মামলায় আইনজীবী হিসেবে থাকবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও রানা দাশগুপ্ত। আসামি লিয়াকতের পক্ষে থাকবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান। আপিলে প্রদীপ দাশ বিচারিক আদালতের রায় বাতিল চেয়েছেন। আর লিয়াকত আলী দন্ড থেকে খালাস চেয়েছেন বলে জানান আইনজীবীরা।
প্রদীপের আইনজীবী রানা দাসগুপ্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে। আপিলে ৪৫ পৃষ্ঠার গ্রাউন্ড (যুক্তি) তুলে ধরেছি। তাতে বলেছি, যুক্তিনিষ্ঠভাবে এবং ন্যায়সিদ্ধভাবে বিচারিক আদালতে এই রায় প্রদান হয়নি। এজন্য আমরা বলেছি যে এই রায় ও আদেশ বাতিল করা হোক।’ লিয়াকতের আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, ‘আপিল ফাইল করে খালাস চেয়েছি। ডেথ রেফারেন্সের শুনানি যখন হবে তখন যুক্তিগুলো তুলে ধরব।’
গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রদীপ ও লিয়াকতের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের নথি) হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় হলে সেটি কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এজন্য মামলার রায় ও নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হাইকোর্টে আপিল ও জেল আপিলের সুযোগ পান। এরপর পেপারবুক (মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত সাপেক্ষে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায় হয়।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। পরে র্যাবের তদন্তে জানা যায় ওসি প্রদীপ দাশের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা। দেশজুড়ে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়টি হয় গত ৩১ জানুয়ারি। রায়ে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ঈসমাইল টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ ও টেকনাফের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদন্ড দেন। এছাড়া ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাতজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, টেকনাফের মারিশবুনিয়া গ্রামের নেজাম উদ্দিন, নুরুল আমিন ও মো. আইয়াজ।