১৮ বছর পর বাবার চেয়ারে বসলেন চেয়ারম্যান ফাইজুল

১৮ বছর পর বাবার চেয়ারে বসলেন আড়াইহাজারের কালাপাহাড়ীয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে ফাইজুল হক ডালিম।

সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শপথ গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার দায়িত্ব বুঝে নেন ৩২ বছর বয়সী এই আওয়ামী লীগ নেতা।

২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ফাইজুল হক ডালিম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ২ বারের  চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন।

নবীন প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৯১ ভোটের ব্যবধানে সাইফুল ইসলাম স্বপনকে হারিয়ে ফাইজুল হক ডালিম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৩ সালে কালাপাহাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন রফিকুল ইসলাম (শান্তি)। ২০১১ ও ২০১৬ সালে টানা দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাইফুল ইসলাম স্বপন। গত ১/১১ আর করোনাকালীন সময় মিলিয়ে তারা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন টানা ১৮ বছর।

২০০৩ সালের আগে এ ইউনিয়নে টানা চার বারের চেয়ারম্যান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম ফজলুল হক। তিনি এ ইউনিয়নের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন চেয়ারম্যান ছিলেন। তার ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল হক ডালিম।

বাবার জনপ্রিয়তায় ভর করে বিপুল ভোটে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ফাইজুল হক ডালিম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরুদ্ধার করেন পিতার চেয়ারম্যান পদ।

স্থানীয়রা আরও জানান, ২০১৯ সালের শুরুতে ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আশা নিয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে কাজ শুরু করেন সমাজ সেবক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল হক ডালিম।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি আর এলাকার উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতায় এবং অনুদানে ইউনিয়নজুড়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। করোনাকালীন সময়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নবাসীর পাশে ছিলেন ফাইজুল হক ডালিম।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেন তিনি। ৪র্থ ধাপে ইউপি নির্বাচনের তফসিলে আড়াইহাজারের ১০ ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ফাইজুল হক ডালিম দলীয় মনোনয়ন চান। কিন্তু নানা নাটকীয়তায় নৌকা জোটেনি তার ভাগ্যে। পরে ইউনিয়নবাসীর চাপে পারিবারিক পরিচয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে নামেন।

গত ২৫ নভেম্বর মনোনয়ন দাখিল করে ভোট চাইতে ভোটারদের ঘরে ঘরে ছুটে যান। ৭ ডিসেম্বর আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন ফাইজুল হক ডালিম।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগ তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে। অদম্য এ যুবক পূর্বের ঘোষণা আর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এ জয়ের মধ্য দিয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ফজলুল হকের উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাবার চেয়ারে বসলেন ছেলে ফাইজুল হক ডালিম।

বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে ফাইজুল হক ডালিম বলেন, ‘১৮ বছর পর বাবার চেয়ারে বসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। দীর্ঘদিন ধরে কালাপাহাড়ীয়া ইউনিয়নবাসী নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা তার জবাব দিয়েছেন। কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফাইজুল হক ডালিম’।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ইউনিয়নটি দীর্ঘ দিন একজনের দখলদারিত্বে থাকায় তিনি তার ইচ্ছামাফিক ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত নাগরিক সেবা থেকে ছিলেন বঞ্চিত। ইউনিয়নের জনগণ এতদিন তাদের আস্থা-ভরসার জায়গা পায়নি।

এবারের নির্বাচনে মানুষ সেই দখলদারিত্বের প্রাচীর ভেঙে ভোটের মাধ্যমে আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে তারা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে ইউনিয়নের সকল দল, মতের ঊর্ধ্বে উঠে এই অবহেলিত ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করতে চাই। এ জন্য ইউনিয়নের সকল নাগরিকের সহযোগিতা চাই’।