তিন দুর্ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিমি যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। জেলার সদর দক্ষিণ থেকে দাউদকান্দির গৌরিপুর পর্যন্ত যানজটে আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে অনেক রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও। দুপুরের পর ধীর গতিতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ভোর ৪টার দিকে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পালকি সিনেমা হলের সামনে ঢাকামুখী লেনের ওপর একটি লরি উল্টে যায়। এতে শুরু হয় যানজট। পরে ৬টার দিকে উপজেলার দোতলা নামক স্থানে চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি ট্রাকের পেছনে অপর একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। প্রায় একই সময় দাউদকান্দি উপজেলার দরানিপাড়া এলাকায় কুমিল্লামুখী আরেকটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এসব কারণে দীর্ঘ এই সড়কে তীব্র যানজট লেগেছিল। 

পুলিশ জানায়, মহাসড়কে উল্টেপড়া  লরি সরাতে সময় লেগেছে অন্তত তিন ঘণ্টা। যে কারণে মহাসড়ক জুড়ে যানজট তীব্র হয়ে ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ৫০ কিমি এলাকায়।

ঢাকা থেকে চান্দিনায় আসা মাছ ব্যবসায়ী আফজাল জানান, তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে মাছ কিনে চান্দিনায় বিক্রি করেন। গতকাল দুটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তার মাছ দেওয়ার অর্ডার ছিল। কিন্তু যানজটের কারণে ৬ ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে। এতে এক কাস্টমার ক্ষুব্ধ হয়ে অর্ডার বাতিল করেছেন।  

কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী এশিয়া লাইনের বাসচালক শাহ জাহান জানান, নিমসার থেকে চান্দিনার ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে তার তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে।

হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরপর তিনটি দুর্ঘটনায় যানজট তীব্র হয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। এখন গাড়ি চলাচল শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ জানান, উল্টোপথে যানবাহন প্রবেশ করায় উভয় দিকে যানজট আরও তীব্র হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের প্রচেষ্টায় দুপুরের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।