ইউক্রেন ইস্যু

জনমতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে সরকার : বিএনপি

‘ক্ষমতা কুক্ষিগত’ রাখতে দেশবাসীর মতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদানে বিরত থেকেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণে বাংলাদেশের অবস্থান জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী। শুধু তাই নয়, বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে ঘোষিত গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের নীতিমালার পরিপন্থী।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত সাত দিন ধরে ইউক্রেনে যুদ্ধে ১০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু এবং শত শত নিরীহ ইউক্রেনবাসীর সঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ইউক্রেনসহ যেকোনো দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের মৌলিক অধিকারকে শ্রদ্ধা করে এবং তার সীমা লঙ্ঘনকে বিরোধিতা করে। বিএনপি সবসময়ই সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে প্রবাহমান বিশ্বজনমতের পক্ষে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ আক্রমণকে ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং তার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করে বিএনপি। এ ধরনের আধিপত্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী তৎপরতা জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী অপরাধ। এ আক্রমণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি। বিএনপি মনে করে দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত জনমত গোটা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারবিষয়ক মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি জাতিসংঘের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে প্রবাহমান বিশ্বজনমত ও মূল্যবোধের পক্ষে বিশ্বের সব শক্তিকে সুদৃঢ় অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। দুই দেশের চলমান আলোচনার ধারাবাহিকতায় যুদ্ধ বন্ধ করে অবিলম্বে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের প্রতি বিএনপি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।’

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও সরকার একইভাবে দেশবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার বিপরীতে ভূমিকা নিয়েছিল। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে কার্যকরী অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কর্মকাণ্ডে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে ফেলছে।’

ইউক্রেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের দুরবস্থা ও পোল্যান্ড সীমান্তে শরণার্থী শিবিরে অবস্থান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার যে অবস্থান নিয়েছে সেই অবস্থান থেকে দেখতে পারছি তাতে মনে হয় না যে, তাদের দৃষ্টিতে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।