‘ঠিকাদারের লোকজন শ্রেণিকক্ষে থাকবে না’ এরকম চিঠি ইস্যু থাকলেও কক্ষ দখল করে আছে ঠিকাদারের লোকজন। শ্রেণিকক্ষে মজুদ করে রাখা আছে নির্মাণসামগ্রী। এতে করে আরেক কক্ষের মেঝেতে শিশু শ্রেণি ও বেঞ্চে বসে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে এবং একই সময়ে ক্লাস করছে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অভিযোগ, একসঙ্গে একই সময়ে দুই শ্রেণির পাঠদান করায় করোনার বন্ধের পর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও কক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া স্কুলটিতে প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষক উপস্থিত হন সকাল ১০টার পরে।
জানা যায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরবিন্দু সরকার এবং চারজন সহকারী শিক্ষক হলেন আবদুল গনি, দিলোয়ারা আক্তার, দুলাল উদ্দিন আকন্দ ও হাবিবা আক্তার। তবে দুলাল উদ্দিন আকন্দ ট্রেনিংয়ে আছেন।
গত শনিবার সকালে এই প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে ছুটে আসেন স্কুলের পাশের বাড়ির বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য দৌলত মিয়া। তিনি বারবার বোঝাতে চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষকের আজই দেরি হচ্ছে আসতে। পরে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ দেখালে একপর্যায়ে তিনি সহমত পোষণ করেন প্রধান শিক্ষকের প্রায়ই যথাসময়ে না আসার বিষয়টি। পরে তিনি বলেন, করোনার সময় স্কুলের নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। স্কুলের স্বার্থে ও সামাজিকতায় ঠিকাদারের লোকদের শ্রেণিকক্ষে থাকতে দেওয়া হয়েছে। এটা অনিয়ম ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে বলেন, ঠিকাদারের লোকজন রমজানের শেষে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে দেবে।
সরেজমিন দেখা যায়, তিনটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে একটি কক্ষ দখল করে থাকছেন ঠিকাদারের লোকজন ও সেখানে সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী মজুদ রাখা। সকাল সাড়ে ৯টায় দিলোয়ারা নামে এক শিক্ষক এসে অফিসকক্ষের তালা খুলে পতাকা উত্তোলন করেন। এরপরই আসেন আরেক শিক্ষক হাবিবা আক্তার। সকাল ১০টার কিছুক্ষণ পর আসেন প্রধান শিক্ষকসহ আরেক শিক্ষক।
ঠিকাদারের নিযুক্ত ফোরম্যান (হেড রাজমিস্ত্রি) আবদুল হেলিম বলেন, এ কাজে কত টাকা বরাদ্দ সঠিক তথ্য জানা নেই। তবে ৯৬ লাখ টাকার মতো হবে। গত ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আগের সব স্কুলেই এভাবে শ্রেণিকক্ষে থেকে কাজ করেছি। এখানেও সেভাবেই কক্ষে থাকছি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অরবিন্দু সরকার বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়ে ঠিকাদারের লোকজনকে কক্ষে থাকতে দিয়েছেন। যথাসময়ে স্কুলে না আসার বিষয়ে তিনি বলেন, আজই আসতে দেরি হয়ে গেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ বলেন, ঠিকাদারের লোকজন স্কুলের মাঠে নিজেরা চালাঘর তৈরি করে থাকার বিষয়ে প্রতিটি স্কুলে চিঠি ইস্যু করা আছে। কোনো অবস্থাতেই শ্রেণিকক্ষ দখল করে বাসস্থান ও মালামাল রেখে পাঠদান ব্যাহত করার নিয়ম নেই।