ফেইসবুকে নারী সেজে প্রেম ডেকে নিয়ে শিক্ষককে হত্যা

ফেইসবুকে সামিয়া জাহান নামে পরিচয় দিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক কাউছার আহমদ রাজুর (৩৪) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শামছুল ইসলাম (২৮)। এরপর সিলেটের জাফলংয়ে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে এনে কাউছারকে আটক করে মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে হত্যা করে সীমান্তবর্তী একটি টিলায় লাশ ফেলে রাখা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত শামছুলকে গ্রেপ্তার করে। নিহত কাউছার সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কালাম বহরপুর গ্রামের আবদুল বাছিতের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। গ্রেপ্তার শামছুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার দাদনচক মিয়াপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। গতকাল বিকেলে গোয়াইনঘাট থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানান সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অভিযুক্ত শামছুল চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে জাফলং মামার বাজারে হোটেল মেঘালয়ে সরকারি একটি বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অবস্থান করে। শামছুলের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, একটি খেলনা পিস্তল, একটি কম্পিউটার হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়েছে। শামছুল নিহত কাউছারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ফেইক আইডি থেকে সামিয়া জাহান নামে প্রেম করত। গত বৃহস্পতিবার তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জাফলং বেড়ানোর কথা বলে ডেকে আনে শামছুল। এরপর তাকে হোটেল মেঘালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে কাউছার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে চলে যেতে চাইলে তাকে আটক করে মারধর করা হয়। এরপর মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু কাউছার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রাত ১০টার দিকে হোটেল থেকে তাকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে সংগ্রাম বিজিবি ফাঁড়ির অদূরে একটি টিলায় নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকা-ের পর শামছুল আবারও মামার দোকান এলাকার মেঘালয় হোটেলে অবস্থান করে।

এদিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ, থানা অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর তদন্ত ওমর ফারুক মোড়লসহ পুলিশ সদস্যরা। তারা নিহতের লাশ উদ্ধার করেন এবং সেখানে তার মোবাইল ফোনও পান। ফোনের সূত্রে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। এরপর পুলিশ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লাশ উদ্ধারের দুই ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত শামছুলকে হোটেল মেঘালয় থেকে গ্রেপ্তার করে।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শামছুল প্রতারণা ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে একজন পেশাদার অপরাধী ও আইটি এক্সপার্ট। তার প্রতারণায় পড়ে মাদ্রাসাশিক্ষককে প্রাণ দিতে হয়েছে। নিহত কাউছারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।