নতুন বছরের প্রথম দুই দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপায় ও বজ্রপাতে ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে প্রাণ গেছে এক মা ও দুই শিশুসন্তানসহ পাঁচজনের। হবিগঞ্জের বজ্রপাতে নিহত হয়েছে দুই শিশুসহ তিন জন। আর কক্সবাজারে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন দুই শ্রমিক।
দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের পাটলি গ্রামে গত বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়ে দুই শিশুসন্তানসহ নিহত হয়েছে এক মা। নিহতরা হলেন পাটলি এলাকার সুলেমানপুর গ্রামের হারুন মিয়ার স্ত্রী মৌসুমি বেগম (৩৫), মেয়ে মাহিমা আক্তার (০৪) ও এক বছর বয়সী ছেলে মো. হোসেন।
পুলিশ জানায়, হারুন মিয়া নেত্রকোনা এলাকার বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরে পাটলি গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতেন। বৃহস্পতিবার হারুন মিয়ার স্ত্রী মৌসুমি বেগম তার দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ পড়লে চাপা পড়ে তারা নিহত হয়।
জগন্নাথপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ভোরে ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানায় আছে, ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একই দিনে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মকবুল মিয়া (৪৫) ও তার ছেলে মাসুদ মিয়া (১৪) ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে শাল্লা সদর উপজেলার নিজ বাড়ির পাশে হাওরে ধান কাটতে বের হন বাবা ও ছেলে। কিছু সময় পরেই বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বানিয়াচঙ্গ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে দুই শিশুসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলো মোহাম্মদ হোসাইন (১৩), জুমা বেগম (১২), আলমগীর মিয়া (২৬)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে শিশু মোহাম্মদ হোসাইন এড়ালিয়া হাওরে ঘাস কাটতে যায়। এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে শিশুটি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। সে দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের তাতারি মহল্লার আক্কেল আলীর ছেলে। একই সময় জাতুকর্ণ পাড়ার আব্দুর রহমান মিয়ার মেয়ে জুমা বেগম মারা যায়। ওই সময় সে বাড়ির আঙ্গিনায় দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। আর ধানের খলা থেকে ধান সংগ্রহ করার সময় বজ্রপাতে আলমগীর মিয়ার ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। তিনি খাগাউড়া ইউনিয়নের এড়ালিয়ার গ্রামের সামসু মিয়ার ছেলে। বানিয়াচঙ্গ থানার ওসি মোঃ এমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্র জানায়, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে ২ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল তাবেলারচর গ্রামের মৃত আবু জাফরের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৫৫) ও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা গজালিয়া গ্রামের ছাত্তার হাওলাদারের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৪৫)। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে পৃথক বজ্রপাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
কুতুবদিয়া থানার ওসি ওমর হায়দার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একই দিন দুপুর ১২টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নে জেলে পাড়ার বাসিন্দা প্রবাস দাশের স্ত্রী সুশীলা (২৬) বজ্রপাতের আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।