ইউএসএআইডির অর্থায়নে ‘প্রতিবেশের’ যাত্রা শুরু

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে ইউএসএআইডির ইকোসিস্টেমের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ‘প্রতিবেশ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং ইউএসএআইডির ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, পলিসি অ্যান্ড প্রোগ্রামিংয়ের ইসোবেল কোলমেন যৌথভাবে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।

ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, ইউএসএআইডির ইকোসিস্টেমের প্রতিবেশ প্রকল্প সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়সমূহ ও কমিউনিটিগুলোর সমন্বয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন, জলাভূমি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করবে যা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল এবং জলাভূমি অঞ্চলগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় কাজ করবে।

প্রতিবেশ প্রকল্পটি মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে প্রাধান্য দেয়, এর মধ্যে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যময় সুস্বাদু পানির জলাভূমি।

প্রকল্পটির সাহায্যে জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা শিখে আয়ের ক্ষেত্র এবং পরিমাণ বাড়িয়ে জীবিকার জন্য বন থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার মাধ্যমে কমিউনিটিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষম করে তুলতে সাহায্য করবে।

নতুন এই প্রতিবেশ প্রকল্পটি দেশের প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসইভাবে সংরক্ষণের জন্য ইউএসএআইডি, বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় জনপদের নেতৃত্বস্থানীয় মানুষের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসইভাবে বন ও জলাভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য আগে বাস্তবায়ন করা কার্যক্রমগুলো থেকে শেখা বিষয়গুলো কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশের কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে কমিউনিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

প্রতিবেশের সংরক্ষণ কার্যক্রম ও জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং অভিবাসন কার্যক্রমের ফলে বাংলাদেশের পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, বাংলাদেশের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ও জীবিকার সংস্থান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়গুলো মোকাবেলার সক্ষমতা তৈরি হবে। 

গত পঁচিশ বছরে ইউএসএআইডি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। এই সময়কালে ইউএসএআইডি স্থানীয় কমিউনিটি এবং বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে ২৫ লাখ একরের বেশি জলাভূমি ও বনভূমি রক্ষায় কাজ করছে।

ইউএসএআইডির ক্লাইমেট স্ট্র্যাটেজিতে (জলবায়ু সংক্রান্ত পরিকল্পনা) বাংলাদেশকে ইউএসএআইডির টার্গেট দেশগুলোর মধ্যে রেখে, ইউএসএআইডি কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনতে এবং দেশগুলোর জলবায়ু সংক্রান্ত সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে কাজ করে চলেছে।