কাঁচা চা পাতা উত্তোলনের ভরা মৌসুমে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চা চাষিরা। মৌসুমের শুরুর দিকে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা ২০ থেকে ২২ টাকা দরে বিক্রি করলেও গত এক মাস ধরে মাত্র ১২ থেকে ১৩ টাকা দরে বিক্রি করছেন চা চাষিরা।
জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চা পাতা না কিনে পঞ্চগড়ের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো সিন্ডিকেট করে কম দামে কিনছেন। লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচই উঠছে না। এর ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন চা চাষিরা।
কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলার চা চাষিরা।
বুধবার বিকেলে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া সড়কের চৌরাস্তায় চাষিরা এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।
সমাবেশে চা চাষি ও কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন, জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজিজার রহমান আজু, জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্যসচিব ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করিম, চা চাষি আহসান হাবিব, আব্দুল হাকিম, সাদ্দাম হোসেন, আবু হানিফ, কবীর হোসেন, আব্দুল মতিন, আতাউর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
বক্তারা বলেন, প্রতি বছর চা পাতা উত্তোলনের ভরা মৌসুমে পঞ্চগড়ের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো সিন্ডিকেট করে কাঁচা চা পাতার দাম কমিয়ে দেন। নানা অজুহাত দেখিয়ে ওজন থেকে শতকরা ২০ থেকে ২২ ভাগ কর্তন করেন। প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার উৎপাদন খরচ হয় ১৫ থেকে ১৬ টাকা। সরকারিভাবে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা ক্রয়ের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ টাকা।
বর্তমানে কারখানা মালিকেরা প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা কিনছেন মাত্র ১২ থেকে ১৩ টাকায়। এর ফলে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচই উঠছে না চা চাষিদের।
একদিকে সিন্ডিকেট চক্রটি চাষিদের ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন অন্যদিকে সরকারকেও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছেন। চা চাষিরা উৎপাদিত কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন চাষিরা।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তেঁতুলিয়া উপজেলার দুই শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি চা চাষি অংশ নেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক অফিসের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, চলতি বছরের জন্য নতুন করে কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।
গত বছরের সর্বশেষ সভার সিদ্ধান্তে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ছিল ১৫.৫০ টাকা। নতুন করে মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় আগের মূল্যই বিদ্যমান রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে চা কারখানা মালিকেরা প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা ২০-২২ টাকা দরে ক্রয় শুরু করেন।
নতুন করে চা পাতার মূল্য নির্ধারণ করলে চা চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ কারণে নতুন করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।
কারখানায় আনা কাঁচা চা পাতার ওজনের ২০-২৫ ভাগ কর্তন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ আমাদের অভিযোগ করেনি। প্রমাণ দিয়ে কেউ অভিযোগ করলে আমরা বটলিফ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।