উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবন। এমনকি সেখানে কোন কোন দপ্তরের কার্যক্রম চলবে তাও বণ্টন করেনি উপজেলা প্রশাসন। এমন অবস্থায় পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পরিষদের কার্যক্রম। পুরনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশংকা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় ৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ করা হয়। নবনির্মিত ভবন দুটি উদ্বোধন করা হয় চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ভবন দুটিতে এখনো কার্যক্রম চালু করা হয়নি।
উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া পরিষদের সামনের পুরনো ভবনটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেকোনো মুহূর্তে এই ভবনটিতে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। ইতিমধ্যে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বৃষ্টি হলেই কক্ষের ভেতরে পানি প্রবেশ করে। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাই অতি দ্রুত নতুন ভবনটি চালু করে পুরনো এই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার দাবি জানান পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা বলেন, ‘উদ্বোধনের পর ঠিকাদার ভবন দুটি হস্তান্তর করেছেন। এখন খুব তাড়াতাড়ি প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কাছে ভবন দুটি এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। প্রশাসনিক ভবন বুঝে পেলে তা বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে বণ্টন করে খুব তাড়াতাড়িই চালু করা হবে।’