প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ছাত্রীকে হাতুড়িপেটা

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পাবনার সুজানগরের সাতবাড়িয়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে এক বখাটে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে বিচার দাবি করেছে ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা। এর আগে গত বুধবার বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাতবাড়িয়া কলেজের সামনে হামলার শিকার হয় সাতবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী।

ছাত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আলাল উদ্দিন বাদী হয়ে হামলাকারী বখাটে ফাহাদ মোল্লাকে আসামি করে সুজানগর থানায় একটি মামলা করেছেন। সে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ফকিরপুর গ্রামের মো. ফারুক মোল্লার ছেলে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্কুলছাত্রী জানায়, ফাহাদ মোল্লা প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। সে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল ফাহাদ। বুধবার সে বান্ধবীদের সঙ্গে বিদ্যালয় ছুটির পর নিজ বাড়ি যাচ্ছিল। পথে সাতবাড়িয়া কলেজের সামনে ফাহাদ মোল্লা তার পথ আটকায়। এ সময় আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। সে প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষুব্ধ ফাহাদ তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। সেখানে কিল, ঘুসি ও লাথি মেরে ফেলে দিয়ে হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাতবাড়িয়া কলেজের সামনে স্কুলছাত্রীকে হঠাৎ মারধর শুরু করে ফাহাদ। ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বখাটে ফাহাদ পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে আসা লোকজন ছাত্রীকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এদিকে স্কুলছাত্রীর ওপর হামলার ঘটনার বিচার দাবিতে সাতবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়টির ফটকে বিক্ষোভ শেষে মানববন্ধন করে। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত হামলাকারী ফাহাদকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে চায়। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় বখাটেদের উৎপাত ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা।

সাতবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমন বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানিয়ে ঘটনার দিন রাতেই আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনার সাথে জড়িত বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আমার বিদ্যালয়ে ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী আছে। তাদের মধ্যে এক ধরনের ট্রমা কাজ করছে। আমরা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’

সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফারজানা আক্তার দেশ রূপান্তরকে জানান, স্কুলছাত্রীর আঘাত গুরুতর হলেও সে শঙ্কামুক্ত।

সুজানগর থানার ওসি আব্দুল হান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই বখাটে ফাহাদকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। খুব শিগগিরই তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছি।’