কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার ৫৬ শতাংশ নারী

দেশে কর্মক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। এ ছাড়া ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী গণপরিসরে বিভিন্ন রকম হয়রানির শিকার হন এবং ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ও কিশোরী নিজ পরিবারেই বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার। গতকাল বুধবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং জাগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সহিংসতার ভয়, আর নয়’ শীর্ষক ‘জাতীয় সংলাপে’ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংলাপটি পরিচালনা করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের গার্লস রাইটের পরিচালক কাশফিয়া ফিরোজ।

এই জাতীয় সংলাপটি ছিল প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং জাগো ফাউন্ডেশনের প্রচারণার একটি অংশ, যা বাংলাদেশের ৪টি বিভাগে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সঙ্গে শুরু হয়েছিল। যেখানে যুবকদের ‘সহিংসতার ভয়’ সম্পর্কে সংবেদনশীল করা হয়েছিল এবং টেকসই বৃদ্ধির জন্য এ সমস্যাটি কীভাবে প্রশমিত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।

সংলাপের আলোচকরা ‘সহিংসতার ভয়’বিষয়ক জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি তুলে ধরেন এই ভয় কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে এবং কীভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ভয়কে জয় করা সম্ভব।

প্রায় ১২ হাজার অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত জরিপের ফলাফল তুলে ধরে কাশফিয়া ফিরোজ বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষক, সিনিয়র স্টুডেন্ট দ্বারা বিভিন্ন বিরূপ ও অশালীন মন্তব্যের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিরূপ মন্তব্যের শিকার হওয়ার কথা জানান অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ শতাংশ।

কাশফিয়া ফিরোজ বলেন, ‘জরিপের প্রাপ্ত তথ্য থেকে আমরা জানতে পারি, ভয়ের কারণে অনেক সময় বাবা-মায়েরা মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, খেলাধুলা, পিকনিকে অংশগ্রহণ করতে দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। সহিংসতা তো বটেই, সহিংসতার ভয় তরুণদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। ভয় দূর করা সম্ভব হলেই তরুণরা তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ করতে পারবে।’ রংপুরের সাদমান নামের একজন অংশগ্রহণকারী প্রত্যন্ত এলাকায় বাল্যবিবাহ নিয়ে তার উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘এটা কখনোই আমার মনে হয়নি যে সহিংসতা বা ভয় একটি ট্রিগার ফ্যাক্টর হতে পারে। আমরা যদি দীপ্তির মতো আমাদের আওয়াজ তুলতে পারি এবং যখনই আমরা কোনো সহিংসতা দেখি তখনই জরুরি নম্বর ব্যবহার করার মাধ্যমে, আমরা আমাদের ভয়কে জয় করতে পারি।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান বলেন, ‘সরকার নারীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং সব সরকারি ব্যবস্থায় নারীদের সম্পৃক্ত করছে। আমরা তরুণদের এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ ও উৎসাহিত করছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন অবকাঠামোগত ব্যবস্থার উন্নতির ওপর আলোকপাত করে বলেন, ‘অবকাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। যেন ভয়ের ক্ষেত্রগুলোকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি জোর দিতে হবে সাপোর্ট সিস্টেম তৈরিতে।’ সম্মিলিত এবং সমন্বিত উপায়ে যুবাদের সচেতনতায় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মালালা ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এম এইচ তানশেন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগিতামূলক জায়গা দরকার। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। উপরন্তু সহিংসতার ভয়ে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতির উন্নতি করতে হবে।’

নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহার বলেন, ‘আমরা মুক্তি চাই, রক্ষা চাই না। নারী হওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যা যা ঘটে বা ঘটতে পারে, সবই সহিংসতা। কী কী ঘটে তা নিয়ে কথা বললেও কী ঘটতে পারে, সেই ভয় নিয়ে আমরা কথা বলি খুবই কম।’