নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার বিআরটিসির এক বাসচালক অজ্ঞাত দেড় হাজার পাওয়ার লুম শ্রমিকের নামে মামলা করেন। অন্যদিকে গতকাল সকালে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে এনিটকস কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের সরাতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসব ঘটনায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক মাস ধরে প্রতিগজ গ্রে কাপড় তৈরির জন্য ২.২৫ থেকে মজুরি ৩.২৫ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন পাওয়ার লুম শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ বারবার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। এরই জেরে গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার রামচন্দ্রী, কড়ইতলা, বিশনন্দী এলাকার ঢাকা-বিশনন্দী ফেরিঘাট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েক হাজার শ্রমিক। তারা সড়কে লোহার স্প্যান রেখে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে ঢাকা থেকে বিশনন্দী ফেরিঘাটগামী, ফেরিঘাট থেকে ঢাকাগামী সড়কে প্রায় ৫ কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রথমে উপজেলার কড়ইতলা, বিশনন্দী এলাকা থেকে ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকরা রামচন্দ্রী এলাকায় একটি বাস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেয়। পরে শ্রমিকরা ফের জড়ো হয়ে গোপালদী বাজারে প্রাইভেট কার ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, লাগাতার নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় তারা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এজন্য গজপ্রতি মজুরি মাত্র ১ টাকা বাড়ানোর দাবি জানালেও মালিকপক্ষ মানছে না। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল দুপুরে অজ্ঞাত দেড় হাজার শ্রমিকের নামে মামলা করেন বিআরটিসির বাসচালক আহসান উল্লাহ। মামলায় অভিযোগ করা হয়, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিশনন্দী ফেরিঘাট আসার পথে রামচন্দ্রীতে প্রায় দেড়শ’ লুম শ্রমিক তার বাস ঘিরে ভাঙচুর করেন। এ সময় বাসে এসে আহসান উল্লাহকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক হাওলাদার জানান, রাত সাড়ে ৭টা থেকে বুঝিয়েও শ্রমিকদের সরাতে পারেননি তারা। বিক্ষুব্ধরা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করা হয়। এখন মামলা হয়েছে। ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। অবরোধ সরাতে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। গতকাল সকালে মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকার এনিটকস নামের পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শ্রমিকরা জানান, এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদুল ফিতরের বোনাস না দিয়ে কর্র্তৃপক্ষ ঈদের আগেই কারখানা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। প্রতিদিনই শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকে এসে ফিরে যান। গতকাল সকালে কয়েক হাজার শ্রমিক কারখানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক এনামুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে নিতে বললে শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শ্রমিকরা কারখানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পুলিশ কারখানা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জুনে বকেয়া ঈদ বোনাস ও বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে শ্রমিকরা ফিরে যান।
কারখানার জিএম বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ৫ জুনের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছে।’