ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। তবে ছাত্রলীগ যেকোনো মূল্যে এ কর্মসূচি ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন নাসির বলেন, ‘আমরা কাল (আজ) ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে যাব। ছাত্রলীগ বাধা দিলে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির নামে যদি কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, হায়েনার মতো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে, ছাত্রলীগ তাদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবে।’
গত মঙ্গলবার ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রদলের অন্তত ৪০ নেতাকর্মী আহত হন। এরই জেরে গতকাল দিনভর ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা দেখা যায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে পাওয়া গেলেও ছাত্রদলের কাউকে দেখা যায়নি।
এদিকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল শাহবাগ থানায় অজ্ঞাত ৩০০/৪০০ জনের নামে মামলা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে অনেকগুলো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রক্টরিয়াল টিমের তথ্য বলছে, ৩০০ থেকে ৪০০ জন হাইকোর্ট ও ঢামেকের সামনে থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে আক্রমণ করেছে। পরে আমি নিজে গিয়ে ইটপাটকেল দেখেছি ও তথ্যের সত্যতা পেয়েছি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাদের তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
বিএনপির মশাল মিছিল, ছাত্রদল নেতাকর্মী আটক : এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘প্রচ্ছন্ন হত্যার হুমকি’র প্রতিবাদে রাজধানীর বিজয়নগরে বিএনপির মশাল মিছিলের চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মী। গতকাল বুধবার রাতে আটক হওয়া ওই নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা রিয়াদ, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা আশিকও।
পল্টন মডেল থানার ওসি মো. সালাহউদ্দীন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদলের কর্মীরা বিনা অনুমতিতে মশাল মিছিল করার চেষ্টা করছিলেন। তখন পুলিশ ৮-১০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মীকে আটক করেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে ওই মশাল মিছিলটি বের করার চেষ্টা করা হয়। সে সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী।