মোংলায় একটি সরকারি রাস্তার ১৫০০ ইট বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. শফিকুল ইসলাম উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার।
স্থানীয় সূত্র ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি) আওতায় চাঁদপাই ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপাই এলাকার ওয়াজেদ আলীর বাড়ি থেকে দীন মোহাম্মদ আলীর বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিংয়ের রাস্তার কাজ চলছে। কিন্তু সে রাস্তা করতে গিয়ে পুরোনো ইট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খবর ছড়ায় সেই ইট এলাকার মেম্বার শফিকুল পাশ্ববর্তী জনৈক মোঃ হাসমতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে এলাকাবাসী শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেই ইট হাসমতের বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার করেন।
এলজিএসপি'র (বাংলাদেশ লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট) চাঁদপাই ইউনিয়ন ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিয়ার রহমান মোড়ল বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় উত্তর চাঁদপাই এলাকায় তিনটি ইট সলিংয়ের রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে ওয়াজেদ আলীর বাড়ি থেকে দীন মোহাম্মদ আলীর বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ ফুট ইট সলিংয়ের রাস্তা থেকে ১৫০০ ইট স্থানীয় মেম্বার শফিকুল বিক্রি করে দেয় বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে।
ওই রাস্তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা চাঁদপাই ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্যা রাবেয়া বেগম বলেন, চলমান তিনটি রাস্তা নির্মাণের মোট ২৫০০ ইট খোয়া যায়। পরে এলাকাবাসীর খবরে শনিবার রাতে ওয়াজেদ আলীর বাড়ি থেকে ১৫০০ ইট উদ্ধার করি।
ইটগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে জানতে চাইলে হাসমত মেম্বার শফিকুলের কথা জানায় বলে নারী সদস্য রাবেয়া বলেন।
এ ব্যাপারে চাঁদপাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এলাকায় ছিলাম না, আর এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
চাঁদপাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলাম বলেন, ইট কোন দিন হেঁটে হেঁটে পুকুরে যায়নি, অবশ্যই চুরি হয়েছে। জনগণের জন্য আমরা রাস্তা করে দিচ্ছি তাও যদি চুরি হয় তা দুঃখজনক। এ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক ন্যায়সঙ্গত বিচার হওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার বলেন, এ সর্ম্পকে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।