সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

জিমনেশিয়াম আছে শরীরচর্চা নেই

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত একমাত্র জিমনেশিয়ামটি (শরীরচর্চা কেন্দ্র) বন্ধ পড়ে আছে। করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর চার মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলেও এখনো বন্ধ জিমনেশিয়ামটি। বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও শরীরচর্চার অন্যতম সহায়ক এই জিমনেশিয়ামের সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আলাদা ব্যায়ামাগার না থাকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামের ফটক তালাবদ্ধ। মেঝেতে পড়েছে ধুলোর আস্তরণ। শরীরচর্চার জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই। যেগুলো আছে সেগুলোও মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে।

জিমনেশিয়ামের বেহালদশায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী আসিবুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘শিক্ষার জন্য সব শিক্ষার্থীকে সুস্থ থাকা প্রয়োজন। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেশিয়াম থাকবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। যে একটি আছে তাও সারা বছর তালাবদ্ধ থাকে। জিমনেশিয়ামটি সচল থাকলে আমরা সেখানে শরীরচর্চা করতে পারতাম। এখন সবার দাবি একটি উন্নতমানের জিমনেশিয়াম। এটা শিক্ষার্থীদের নানা সীমাবদ্ধতার ভেতরে কিছুটা মানসিক শক্তি জোগাবে। জিমনেশিয়ামের আধুনিকায়ন জরুরি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মো. ছানোয়ার হোসেন মিয়া বলেন, ‘জিমনেশিয়ামটি বর্তমানে করোনা আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। যে কারণে বন্ধ আছে। আর শরীরচর্চায় প্রয়োজনীয় সাইক্লিং মেশিন, ট্রেডমিল, মাল্টিজিম, ডাম্বেল, বারবেল ও ওয়েট যন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট। নতুন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রক্টর সোহেল মিঞাকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। নষ্ট যন্ত্রপাতি বিক্রির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিলাম কমিটিকে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় একটি ফিটনেস ক্লাব করার পরিকল্পনা আছে।’

তৎকালীন প্রক্টর সোহেল মিঞার কাছে ওই কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কমিটি অকার্যকর হয়ে গেছে। জিমনেশিয়ামের জন্য নতুন কোনো যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি।’

তবে জিমনেশিয়ামকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার করার বিষয়ে সিকৃবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. অসীম রন্জন রায় জানিয়েছেন ভিন্ন তথ্য। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিকৃবি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবলের সংকটে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শারীরিক শিক্ষা দপ্তর চাইলেই তাদের জিমনেশিয়ামটি ব্যবহার করতে পারবে।’