বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভাঙনে দিশেহারা কুড়িগ্রামের মানুষ

নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে নিচু এলাকার ঘর-বাড়ি থেকে পুরোপুরি পানি নেমে না যাওয়ায় দুর্ভোগ কমেনি। এখনও স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি বন্যা কবলিত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এ অবস্থায় নিজেদের পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্য সংকট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের পরিবারগুলো।

এরই মধ্যে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন। অনেকেই বসতবাড়ি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। যাদের সামর্থ্য আছে তারা উঁচু এলাকায় যাচ্ছেন, তবে যারা নিতান্তই উপায়হীন নিয়তি তাদের একমাত্র ভরসা।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ফারাজি পাড়ার বাসিন্দা মর্জিনা বেগম, মুর্শিদা ও দুলালী বেগম জানান, এক বছর আগে ওই পাড়ার ২০টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে তৃতীয়বারের মতো এই গ্রামে বসতি গড়ে তোলেন। কিন্তু আবারও ভাঙনে এখন দিশেহারা তারা। কী করবেন কোথায় যাবেন জানেন না তারা, রয়েছে ক্ষোভও।

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বুড়ির হাট এলাকার শাহীন বলেন, গত বছর তিস্তার ভাঙনে এখানকার অনেক ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এ বছরও ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থায়ীভাবে একটা সমাধান করতে হবে। যখন ভাঙে তখন কাজ করে এটা কেমন কথা? আর সারা বছরেই কোনো কাজ নাই। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, আমার ইউনিয়নের গারুহাড়া, বানিয়া পাড়া ও ফারাজি পাড়া এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু বানিয়া পাড়ায় কিছু কাজ করেছে। পরবর্তী ওই দুটি এলাকায় কাজ করবেন বলে কথা রয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তীর রক্ষা বাধ ঘুরে দেখেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ।

তিনি বলেন, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদী আমি পরিদর্শন করলাম। কিছু জায়গায় পানি নেমে যাওয়ার পর ভাঙছে। আমাদের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বিভাগীয় প্রকৌশলী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় রয়েছে। যেখানেই ভাঙনের খবর পাওয়া যাবে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কাজ করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা কবলিত নয় উপজেলায় জন্য ৩৩৮ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।