ঘুষের ২৩ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলএও) সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় হওয়া মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন গতকাল সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে জেলা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, গত পহেলা জুলাই ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকাসহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন সার্ভেয়ার আতিক। পরে তাকে কক্সবাজার ফেরত পাঠানো হলে সদর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় জেলা প্রশাসন। সার্ভেয়ার আতিক সরকারি কর্মচারী হওয়ায় বিধিমতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজের একটি অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করে দুদকে অনুলিপি পাঠানো হয়। এরপর রবিবার বিকালে দুদকের সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে সার্ভেয়ার আতিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারায় মামলাটি করা হয়।
এটি কক্সবাজার দুদক কার্যালয়ের প্রথম মামলা। তাই মামলাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্তসহ সংশ্লিষ্ট সবকিছু করা হবে বলে জানিয়েছেন কার্যালয়টির উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম।
সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তিনিসহ ৩ জন সার্ভেয়ার মহেশখালীতে সরকারের প্রায় ১৫টি প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন। ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে জমির মালিকদের কাছ থেকে ঘুষ বাবদ আতিকুর রহমান জব্দ করা অর্থ নিয়েছেন বলে সন্দেহ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজারে সরকারের ৩ লাখ কোটি টাকার ৭২টি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের জন্য প্রচুর পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। অধিগ্রহণ কাজে সহযোগিতা করা সার্ভেয়ারদের মধ্যে এর আগেও বেশ কয়েকজন নগদ কোটি টাকাসহ দুদকের হাতে গ্রেপ্তার হন।
আতিক আটকের পর ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় তোলপাড় শুরু হয়।